
দিল্লিতে ধর্না ও বিক্ষোভের জন্য যন্তর-মন্তরকে বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিক্ষোভের জন্য তিনটি নতুন স্থান ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করেছে। সেগুলি হল রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং CBD গ্রাউন্ড। এদিকে যন্তর-মন্তরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন CJP নেতা অভিজিৎ দীপকে।
যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, 'এক কাপুরুষ স্বৈরশাসক যন্তর মন্তরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এবার গোটা দেশ যন্তর মন্তর হবে।'
বিক্ষোভের জন্য নতুন তিনটি জায়গা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশ জারি করেছে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশে উল্লেখ, ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি হওয়া পুরনো নির্দেশ সংশোধন করা হয়েছে। যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে সরিয়ে তার পরিবর্তে তিনটি জায়গাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন তালিকায় রয়েছে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির CBD গ্রাউন্ড। নিরাপত্তার কারণেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
নির্দেশে বলা হয়েছে, নতুন তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP জারি করা হবে। ওই নির্দেশিকায় বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার পদ্ধতি, আয়োজনের নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে যন্তর-মন্তরে সব ধরনের বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশের বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন। একইভাবে, নতুন স্থানগুলিতে বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত মানতে হবে, তা সংশোধিত SOP প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
দিল্লিতে বিক্ষোভের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম যন্তর মন্তর। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ নানা দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। সেই জায়গাকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ দিপকে।
তাঁর 'এবার গোটা দেশ যন্তর-মন্তর হবে' মন্তব্যের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা দেন তিনি। তবে নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের নিয়ম ও অনুমতির প্রক্রিয়ায় ঠিক কী পরিবর্তন আসবে, তা সংশোধিত SOP প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে।