
কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জামিন মঞ্জুর করল আদালত। তাঁদের আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। গত আট দিন ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন তাঁরা। বুধবার তাঁদের বর্তমান বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়। সেই কারণে শুনানির জন্য তাঁদের SEM আদালতে পেশ করা হয়েছিল।
শুনানিতে দিল্লি পুলিশ দুই নেতার হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন জানায়। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত। এর আগে তাঁদের জামিনের আবেদন এবং বিক্ষোভ ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল দিল্লি হাইকোর্ট।
বিকল্প আইনি পথ থাকতে সরাসরি হাইকোর্টে কেন?
এদিন সকালে শুনানির সময় বারবার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, আইনে যখন আপিল-সহ অন্য বিকল্প আইনি পথ রয়েছে, তখন আবেদনকারীরা সরাসরি সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কেন? বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন, জামিনদারদের প্রত্যাখ্যান এবং ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে শুনানিতে।
সৌরভ-আশুতোষ কি জেন জি? জিজ্ঞাসা করে আদালত
শুনানি চলাকালীন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বয়স জানতে চায় আদালত। তাঁদের আইনজীবী জানান, সৌরভের বয়স ২৭ বছর এবং আশুতোষের ৩১ বছর। এরপর আদালত স্পষ্ট জানায়, তাঁরা জেন জি (Gen Z) নন। কোন বয়সের মানুষকে মিলেনিয়ালস বলা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
বিক্ষোভে শিশুদের উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে শুনানিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভে শিশুরাও ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ একই থাকলেও আন্দোলনের ইস্যু বদলে গিয়েছে।
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে কোন কোন ধারা?
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে দিল্লির কনট প্লেস থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২২৩এ, ৩৩২ এবং ৬১(২) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারাগুলি সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, অপরাধের উদ্দেশ্যে বাড়ি বা কোনও চত্বরে প্রবেশ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, সংসদ মার্গ থানায় দায়ের হওয়া পৃথক এফআইআরে তাঁদের বিরুদ্ধে BNS-এর ২২১, ১১৫(২), ১৩২, ১২১(১) এবং ৩(৫) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়া, আঘাত করা, কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা বা বলপ্রয়োগ এবং অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে এই ধারাগুলি প্রাসঙ্গিক।