
এবার কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের সঙ্গে বৈঠক করল ককরোচ জনতা পার্টি। মঙ্গলবার কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে বৈঠক করে তারা। CJP-র মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা জানান, তাঁদের লক্ষ্য কৃষক, ছাত্র ও যুবসমাজকে একত্রিত করে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন CJP-র মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা-সহ সংগঠনের একাধিক নেতা এবং ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (BKU)-এর নেতা রাকেশ টিকায়েত ও অন্য প্রতিনিধিরা। CJP-র দাবি, বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কৌশল এবং কৃষক-ছাত্র-যুবকদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর অশুতোষ বলেন, 'আমরা আশা করি দেশের কৃষক, ছাত্র এবং যুবসমাজ একসঙ্গে কাজ করে চারদিক থেকে মোদী সরকারকে ঘিরে ফেলবে।'
প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বৈঠক হল। CJP-র ইঙ্গিত, এবার শুধুমাত্র শিক্ষাসংক্রান্ত দাবি নয়, কৃষক ও যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যাকেও আন্দোলনের মূল ইস্যুতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংগঠনের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সময় কেন্দ্র এবং কয়েকটি রাজ্য সরকার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। CJP-র দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যেও এখনও ছাত্রদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হচ্ছে।
এই বৈঠকে CJP নেতারা আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাকেশ টিকায়েতের সমর্থনও চান। তাঁদের হুঁশিয়ারি, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না করলে কৃষক সংগঠন ও যুব সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর-মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় রাকেশ টিকায়েত একাধিকবার আন্দোলনস্থলে গিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন। গত ২০ জুলাই CJP-র ডাকা যন্তর-মন্তরের মিছিলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। সংসদের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে সেই আন্দোলন দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগ। ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। CJP-র দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আত্মহত্যাকারী ছাত্রদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে FIR না করার আশ্বাসের ভিত্তিতেই আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল।
তবে CJP-র অভিযোগ, আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো FIR এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। সেই কারণেই সংগঠনটি আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।