
'অরশোলাদের' অভিযানের মাঝে সাড়া কেন্দ্রের। NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত Cockroach Janta Party (CJP) সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দিল। সেখানে সংগঠনটি ৩টি মূল দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ এবং NEET প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ।
এদিন সংসদ অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছিল CJP। হাজার হাজার ছাত্র-যুব এবং সমর্থক সংসদ স্ট্রিট এলাকায় জড়ো হয়ে সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। পরে জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকেও বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ।
এই বিক্ষোভের মধ্যেই CJP-র একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে এবং লিখিত স্মারকলিপি জমা দেয়। এক্স-এ করা পোস্টে নাড্ডা জানান, বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকেই আলোচনার প্রস্তাব এসেছিল এবং সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকেই আলোচনা শুরু হয়। তিনি বলেন, বিকেল প্রায় ৪টার সময় প্রতিনিধি দল তাঁর হাতে লিখিত আবেদনপত্র তুলে দেয়। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অবস্থান তুলে নিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার আবেদন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্মারকলিপিতে CJP জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুককে কোনও ধরনের চলাফেরার বিধিনিষেধ ছাড়াই নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণ এবং NEET প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিনই আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার বৈঠক হয়। তবে ওই বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশি বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকার করেন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সংসদ স্ট্রিট এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকে দেওয়া হয়।
গত ৬ জুন থেকে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন শুরু করে CJP। পরে সেই আন্দোলন দেশের একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের অভিযোগ, NEET ২০২৬ প্রশ্নফাঁস, CBSE দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল বিভ্রাট এবং CUET পরীক্ষায় বিলম্ব-সহ একাধিক ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা সামনে এসেছে এবং তার দায় শিক্ষা মন্ত্রককেই নিতে হবে।
CJP দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছে। সংগঠনের দাবি, এই আন্দোলন দেশের ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।
জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর CJP-র প্রতিনিধি দল জানায়, আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। তাদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহানুভূতির সঙ্গে সব দাবি শুনেছেন এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলেই তারা আশাবাদী। একইসঙ্গে সমর্থকদের শান্তি বজায় রেখে সরকারের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করার আবেদনও জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, সোমবার দিল্লি হাই কোর্টে সোনম ওয়াংচুক সংক্রান্ত মামলার শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং তাঁর আস্থাভাজন এক চিকিৎসককে পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। ওয়াংচুকের হয়ে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে আবেদন করেন, তাঁর মক্কেলকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসকরা যদি কোনও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করেন, তবে AIIMS-এর ডিরেক্টরের অনুমোদন ছাড়া সেই চিকিৎসা করা যাবে না। পাশাপাশি আদালত পর্যবেক্ষণ করে, একটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর চিকিৎসা অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকের পক্ষে চিকিৎসা-প্রোটোকল অনুযায়ী করা সম্ভব নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি মঙ্গলবার হবে।