Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উদ্বিগ্ন 'ককরোচরা', ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

CJP আরও অভিযোগ করেছে, সরকারের সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চলা এবং সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও সরকারের আইনজীবীরা কেন সেই তথ্য সুপ্রিম কোর্টকে জানাননি।

ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-রফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 28 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:44 PM IST
  • দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নিজে এই নিয়ে সরব হয়েছেন
  • জানিয়েছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে খুব শীঘ্রই বৃহৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হবে

ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহারের বিষয়ে যে আশ্বাস দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তা থেকে সরে আসছে কেন্দ্র সরকার। এখানে চুক্তিভঙ্গ হচ্ছে বলে অভিযোগ। 

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী এবং কোনও অপরাধমূলক অতীত নেই এমন ছাত্রদের মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন রাজ্যে CJP-র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া FIR-এ আপাতত কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।

তবে CJP-র আপত্তি,  সুপ্রিম কোর্টের সেই অংশে যেখানে সরকারকে আগের FIR এবং তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই নির্দেশ দেশের জন্য উদ্বেগজনক। CJP-র বক্তব্য, ২৫ জুলাই কেন্দ্র সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত FIR প্রত্যাহার করা হবে এবং কোনও ছাত্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। সেই আশ্বাস না পেলে আন্দোলন প্রত্যাহার করত না। ওই সংগঠনের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি আদালতের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে পৃথক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যেতে পারে।

অভিজিৎ দিপকের বার্তা

CJP আরও প্রশ্ন, সরকারের সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চলা এবং সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও সরকারের আইনজীবীরা কেন সেই তথ্য সুপ্রিম কোর্টকে জানাননি? দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নিজে এই নিয়ে সরব হয়েছেন। জানিয়েছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে খুব শীঘ্রই বৃহৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হবে। তাঁর কথায়, 'ছাত্রদের টার্গেট করা এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে।'

তবে CJP-র দাবি, সুপ্রিম কোর্ট কোথাও সরকারকে FIR চালিয়ে যেতে বাধ্য করেনি। বিহার ও অসমের উদাহরণ তুলে ধরে তারা বলেছে, সরকার চাইলে এখনও মামলা প্রত্যাহার করতে পারে বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Advertisement

তাই কেন্দ্র এবং বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির কাছে CJP-র দাবি, '২৫ জুলাইয়ের আশ্বাসের সমস্ত শর্ত সুপ্রিম কোর্টের সামনে পেশ করা হোক। যাতে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।' 

একইসঙ্গে CJP হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকার প্রতিশ্রুতি না রাখলে তাদের সামনে দেশব্যাপী আন্দোলন ফের শুরু করা ছাড়া আর কোনও পথ থাকবে না। তাদের দাবি, দেশের যুবসমাজ সরকারের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেছিল, সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করা হলে ভারতের রাস্তাই আবার তরুণদের প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল CJP। পরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন সেই আন্দোলনে নতুন গতি আনে। ২০ জুলাই সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর আন্দোলন বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।


শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে FIR না করার আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement