Advertisement

স্কুলে হার্ট অ্যাটাক, ক্লাসরুমেই মত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ১৩ বছরের কিশোর

অর্থব ছিল প্রেম সিং ও তাঁর স্ত্রীর একমাত্র সন্তান। তাকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের যাবতীয় স্বপ্ন ও আশা। অল্প বয়সে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

ক্লাসরুমে কিশোরের মৃত্যু ক্লাসরুমে কিশোরের মৃত্যু
  • 06 Nov 2026,
  • अपडेटेड 12:23 PM IST
  • ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষক এবং অন্য পড়ুয়ারা প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেনি
  • মুহূর্তের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়ে অর্থব

সকালেও সবকিছু ছিল স্বাভাবিক। রোজকার মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাসতে হাসতেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। বাবা নিজে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেটাই হবে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা! কিছুক্ষণ পরেই স্কুল থেকে ফোন আসে। জানানো হয়, ক্লাসের মধ্যেই হঠাৎ পড়ে গিয়েছে তাঁর ছেলে। তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছে সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যান বাবা। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের জানকিপুরম এলাকার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে অর্থব ওরফে ডুগ্গুর। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।

ক্লাসে ঢুকেই হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে পড়ুয়া

ঘটনাটি বুধবার সকালের। জানকীপুরমের বাসিন্দা প্রেম সিং পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী। প্রতিদিনের মতো এদিনও তিনি তাঁর ১৩ বছরের ছেলে অর্থবকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত অর্থব। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মীনা তাংড়ির কথায়, ক্লাসে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ পিছনের দিকে মেঝেতে পড়ে যায় সে। তখনও তার কাঁধে ঝোলানো ছিল স্কুলব্যাগ।

ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষক এবং অন্য পড়ুয়ারা প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়ে অর্থব। আচমকা এই ঘটনায় ক্লাসের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকরা দ্রুত তাকে সামলানোর চেষ্টা করেন। পরে স্কুলের অন্য কর্মীদের সাহায্যে তাকে স্টাফরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার শরীরে কোনও সাড়া না মেলায় উদ্বেগ বাড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে খবর দেওয়া হয় তার বাবাকে।

স্কুল থেকে ফোন পেয়ে ছুটে যান বাবা

ছেলের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছে যান প্রেম সিং। শিক্ষকদের সহযোগিতায় অর্থবকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের আশা ছিল, দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে হয়তো ছেলেকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement

এই খবর শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা। হাসপাতালেই তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন উপস্থিত শিক্ষক এবং অন্যরা। যে সন্তানকে কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের হাতে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই সন্তানের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল অর্থব

অর্থব ছিল প্রেম সিং ও তাঁর স্ত্রীর একমাত্র সন্তান। তাকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের যাবতীয় স্বপ্ন ও আশা। অল্প বয়সে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। স্কুলের শিক্ষক এবং সহপাঠীরাও এই ঘটনায় মর্মাহত। যে ক্লাসে কিছুক্ষণ আগেও স্বাভাবিক পড়াশোনা চলছিল, সেখানেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

মৃত্যুর কারণ কি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট?

মাত্র ১৩ বছর বয়সে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে অর্থবের। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হল এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যেখানে হৃৎপিণ্ড আচমকা কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্ক-সহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে  আক্রান্ত ব্যক্তি আচমকা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা এবং সিপিআর-এর মতো জরুরি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ, অভিযোগ দায়ের করেনি পরিবার

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশও। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। চিকিৎসকদের প্রাথমিকভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানোর পর আপাতত কোনও অভিযোগ দায়ের করতে চাননি মৃত পড়ুয়ার পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।

Read more!
Advertisement
Advertisement