
ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে বারবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের তরফে ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবি করা হয়েছে। সেই ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পরও চার রাজ্যের বিধান পরিষদের ২৮ আসনের মধ্যে একটিও জিততে পারেনি কংগ্রেস। তা নিয়ে রাহুল গান্ধীর দলকে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি ইমোজিও ব্যবহার করেন।
বুধবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মোদী লেখেন, 'উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্নাটক, এই চার রাজ্যে ২৮টি আসনে MLC নির্বাচন হয়েছে। ভোট কিন্তু হয়েছে ব্যালট পেপারে। সেখানে কংগ্রেস কতগুলি আসন জিতেছে, তা অনুমান করুন দেখি।' সেই পোস্টের সঙ্গে একটি মনোকল হাতে চিন্তামগ্ন মুখের ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপারে ভোটের দাবিকে সামনে রেখেই কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চার রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি। মোট ২৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস লড়েছিল ১২টিতে। কর্নাটকে কংগ্রেসের সরকার থাকা সত্ত্বেও বিধান পরিষদের আগে তাদের দখলে থাকা চারটি আসনই হাতছাড়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্নাটকে চারটি আসনেই হার কংগ্রেসের
কর্নাটক কংগ্রেসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস পরিচালিত সরকার। কিন্তু MLC নির্বাচনে দলটি চারটি আসনেই পরাজিত হয়েছে। বিরোধী জেডিএস একটি আসন কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি তার দখলে থাকা তিনটি আসন ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই ফলাফলকে সামনে রেখেই কংগ্রেসের ইভিএম-বিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলগুলির বক্তব্য, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কংগ্রেস যে ‘ভোট চুরি’র প্রচার চালাচ্ছে, এই নির্বাচনের ফল সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
কী এই MLC নির্বাচন?
বিধান পরিষদের সদস্যদের নির্বাচনের জন্য উত্তরপ্রদেশ, বিহার, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ হয় ২৩ অক্টোবর। উত্তরপ্রদেশে শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ১১টি আসনে নির্বাচন হয়। বিহারে চারটি, কর্নাটকে দুটি এবং মহারাষ্ট্রে পাঁচটি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। গণনা শুরু হয় মঙ্গলবার।
ইভিএম নিয়ে বিতর্কে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর
দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যালট পেপারে করানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণে কারচুপি করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হতে পারে। এই অভিযোগ ঘিরে বিরোধীরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদও জানিয়েছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগগুলি খারিজ করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ তুলেছে। চার রাজ্যের MLC নির্বাচনের ফলকে হাতিয়ার করে ফের সেই বিতর্কে নতুন করে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।