
'ভিত্তিহীন জল্পনা'। মমতার ঘরওয়াপসি নিয়ে চর্চা সম্পর্কে এমনাই জানাল কংগ্রেস। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর দীর্ঘক্ষণের বৈঠকের পর থেকেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে ফিরছেন বলে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে। তবে সমস্ত জল্পনাই ভিত্তিহীন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে হাত শিবির।
বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বলেন, 'বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে জাতীয় স্তরের ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দুই দলের জুড়ে যাওয়া নিয়ে এমন কোনও আলোচনা হয়নি।'
উল্লেখ্য, বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর একটি ছবি পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল পেজ থেকে লেখা হয়, 'আগামী দিনে BJP বিরোধী মঞ্চ INDIA-কে আরও শক্তিশালী করা নিয়ে কথা হয়েছে দু'জনের।' রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ের ভাবনাচিন্তা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে ঘরওয়াপসি নিয়ে আদৌ কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব দল গঠন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে যখন তাঁর দলের নেতারা একে একে সঙ্গ ছাড়ছিলেন, একের পর এক কাউন্সিলর-নেতারা গ্রেফতার হচ্ছিলেন, তখন মমতা দিল্লিতে ছিলেন। বাংলায় যখন এত বড় সঙ্কট, মমতা তখন দিল্লিতে কেন? স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন ছিল সকলের মনে। তারপরই রটে যায়, দুর্দিনে ফের 'হাত' ধরতে চাইছেন মমতা।
ইঙ্গিত জোরাল হয় শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউতের একটি বক্তব্যে। তিনি ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, 'TMC, NCP এবং কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা অন্য দলগুলির উচিত আবার মূল দলে ফিরে যাওয়া।' তাঁর দাবি, শক্তিশালী কংগ্রেসই বিরোধী রাজনীতিকে নেতৃত্ব দিতে পারবে এবং BJP দেশের ছোট আঞ্চলিক দলগুলিকে রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চাইছে।