Advertisement

Rajasthan Municipal Election 2026 : BJP প্রার্থী মাত্র ১টি ভোট পেলেন, রাজস্থানের পুরভোটে শোচনীয় অবস্থা গেরুয়া শিবিরের

কোনও একটি ওয়ার্ডে প্রার্থীর মাত্র ১ ভোট পাওয়া সাধারণত বিরল ঘটনা। ফলে ভাঁওরলালের ফলাফল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। RLP-র বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং দলের একাধিক প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে জয়ও পেয়েছেন।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • জয়পুর ,
  • 14 Sep 2026,
  • अपडेटेड 5:56 PM IST
  • পুরসভার একটি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১টি ভোট
  • যে ওয়ার্ড থেকে তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ওয়ার্ডের ভোটারই নন তিনি

রাজস্থানের ডিডওয়ানা-কুচামন জেলার পরবতসর পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কারণ, পুরসভার একটি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১টি ভোট। যে ওয়ার্ড থেকে তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ওয়ার্ডের ভোটারই নন তিনি। ফলে নিজের ভোটটিও নিজেকে দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে এসেছে মাত্র ১টি ভোট।

পরবতসর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কৈলাস চন্দ্র। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ১ ভোট। ওই ওয়ার্ডে কংগ্রেসের হিনা খানম পেয়েছেন ৩৭৬ ভোট। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থী রশিদ খান পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। ফলে বিজেপি প্রার্থীকে টপকে দু’জনের কাছেই অনেকটা পিছিয়ে পড়েন কৈলাস।

যে ওয়ার্ডে দাঁড়ালেন, সেখানকার ভোটারই নন

কৈলাস চন্দ্রের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, তিনি যে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে লড়েছেন, সেই ওয়ার্ডের ভোটারই নন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কৈলাস চন্দ্র ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। তাঁর পরিবারের ভোটও ওই ওয়ার্ডেই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে দলের তরফে কৈলাস চন্দ্রকে ওই ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন জমা দিতে বলা হয়। দলের নির্দেশ মেনে তিনি প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে লড়াই করেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, যে ওয়ার্ডের তিনি প্রার্থী, সেখানে তাঁর নিজেরই ভোট দেওয়ার সুযোগ সুযোগ ছিল না। 

তাহলে কি শুধু প্রার্থী দেখাতেই ভোটে নামানো হয়েছিল?

বিজেপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কেন মাত্র ১টি ভোট পেলেন? তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁকে কি শুধুমাত্র প্রার্থী দেওয়ার নিয়ম রক্ষার জন্যই দাঁড় করানো হয়েছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির কোনও প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই কারণে কংগ্রেস যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই কৈলাস চন্দ্রকে প্রার্থী করা হয়েছিল। 

Advertisement

তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল এবং প্রার্থী বাছাইয়ের সময় দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল, সে বিষয়ে বিজেপির সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। 

RLP প্রার্থীরও ঝুলিতে মাত্র ১ ভোট

শুধু বিজেপি প্রার্থী নন, পরবতসর পুরসভায় RLP-র এক প্রার্থীর ফলাফলও নজর কেড়েছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন RLP প্রার্থী ভাঁওরলাল। তাঁর ঝুলিতেও এসেছে মাত্র ১ ভোট।

কোনও একটি ওয়ার্ডে প্রার্থীর মাত্র ১ ভোট পাওয়া সাধারণত বিরল ঘটনা। ফলে ভাঁওরলালের ফলাফল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। RLP-র বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং দলের একাধিক প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে জয়ও পেয়েছেন। সেই দলের একজন প্রার্থী মাত্র ১টি ভোট পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

এক ভোটের ফল, একাধিক প্রশ্ন

পরবতসর পুরসভার এই দুই ফলাফল এখন শুধু স্থানীয় নির্বাচনের অঙ্ক নয়, প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক দলগুলির স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিজেপি প্রার্থী কৈলাস চন্দ্রের ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি যে ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই ওয়ার্ডের ভোটারই ছিলেন না। ফলে নিজের প্রার্থীপদে নিজেকেই ভোট দিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর পাওয়া একমাত্র ভোটটি কে দিয়েছেন, সেটিও এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরভোটের এখনও পর্যন্ত যা চিত্র সামনে আসছে

রাজস্থানের পুরভোটের গণনায় এখনও পর্যন্ত এগিয়ে বিজেপি। রাজ্যের ৩০৯টি নগর স্থানীয় সংস্থার ভোটের গণনা চলছে। এর মধ্যে ১০টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ৫১টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল এবং ২৪৮টি পুরসভা রয়েছে। সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, বিজেপি ৪,০২৩টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে। কংগ্রেস জিতেছে ৩,৪৩৮টি ওয়ার্ডে। নির্দল প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২,৪৩৫টি ওয়ার্ডে।

১০টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মধ্যে বিজেপি ৫টিতে এগিয়ে রয়েছে। জয়পুর, আলওয়ার, উদয়পুর, কোটা এবং ভিলওয়ারায় বিজেপির দখল শক্তিশালী। অন্যদিকে কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে আজমের, পালি এবং বিকানেরে। যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেসের লড়াই একেবারে হাড্ডাহাড্ডি—দুই দলই ৪৪টি করে ওয়ার্ডে এগিয়ে। ভারতপুরে নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

পুরসভা ও মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ক্ষেত্রেও বিজেপি সামগ্রিকভাবে ভালো ফল করছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২১টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে বিজেপি, ১৬টিতে কংগ্রেস এবং ৮টিতে অন্যান্যরা এগিয়ে রয়েছে। পুরসভার ক্ষেত্রে বিজেপি ১১৬টিতে, কংগ্রেস ৮০টিতে এবং অন্যান্যরা ৪০টিতে এগিয়ে রয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় এখনও ফলাফল ঝুলে রয়েছে।

বড় শহরগুলির মধ্যে জয়পুরে বিজেপির ব্যবধান উল্লেখযোগ্য। উদয়পুর, কোটা, আলওয়ার এবং ভিলওয়ারাতেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তবে আজমের, পালি ও বিকানেরের মতো জায়গায় কংগ্রেস ভালো লড়াই দিয়েছে। বিশেষ করে ঝালাওয়ার মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে কংগ্রেস ২৫টির মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ড জিতে নিয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। ওয়ার্ড জয়ের সংখ্যায় কংগ্রেসের থেকে বিজেপির ব্যবধান প্রায় ৫৮৫টি। ফলে এই মুহূর্তে পুরভোটের সামগ্রিক ফলাফলে বিজেপির পাল্লাই ভারী। তবে বেশ কিছু জায়গায় গণনা ও ফল ঘোষণা এখনও বাকি থাকায় চূড়ান্ত ছবিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement