
পুজো মেটার পরই ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা। আসলে ২৩ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এরপর সেটি পশ্চিম ও উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা। পরে সেটি পরিণত হতে পারে সাইক্লোনে। তবে সেই পথে একাধিক ধাপ পেরোতে হবে সেটিকে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, লক্ষ্মীপুজোর আবহাওয়া কেমন থাকবে? লক্ষ্মীপুজোয় কি বৃষ্টি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
এই সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশি থাকলে, বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ বজায় থাকলে নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে সংগঠিত বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করতে পারে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে সুসংগঠিত গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে এবং ক্রমাগত শক্তি বাড়ালে তা থেকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে শুধুমাত্র নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বলেই যে ঘূর্ণিঝড় হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বর্ষা বিদায়ের পর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রবণতা বেশি থাকে। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়কাল। এর কারণ, সমুদ্রের উষ্ণ জলরাশি এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি।
কবে তৈরি হতে পারে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়?
ওয়েদার আল্টিমার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানালেন, '২৩ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা। ২৩-২৪ অক্টোবরে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ২৪-২৫ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপ বা নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা। ২৫ অক্টোবর থেকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়। সেই সঙ্গে আরও শক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা'। আপাতত এটাই তাঁর পূর্বাভাস।
বর্তমান অবস্থান
রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার কথায়,'বর্তমানে উত্তর-মধ্য আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে ঘূর্ণাবর্তটি। গত ৪৮ ঘণ্টায় থাইল্যান্ডের উপর দিয়ে এগিয়ে আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় (২২-২৪ অক্টোবর) আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব এবং সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোতে পারে। এরপর ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে পারে'।
বাংলায় কি আসতে ঘূর্ণিঝড়?
ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার জানালেন,'স্থলভাগে প্রবেশের পর গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া ?যাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে পূর্ব উপকূল বরাবর এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলের দিকে যেতে পারে, এমনকি স্থলভাগের ভিতর দিয়েও এগোতে পারে'।