
সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি নিশ্চিত একটা খবর দেখেছেন, চলতি মাস মানে সেপ্টেম্বরের শেষে হতে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। সত্যিই কি তাই? এখনও পর্যন্ত আলিপুর আবহাওয়া দফতর এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও পূর্বাভাস দেয়নি। তবে আবহাওয়া মডেলে দেখা যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের জোরালো সম্ভাবনা। আবহবিদ
আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানালেন, ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে বা ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোরে আন্দামান সাগর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হয়েছে। তার সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহের পরিস্থিতি মিলে ঘূর্ণাবর্তটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০-৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণ ভাবে সমুদ্রের উপর নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরির জন্য প্রায় ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযুক্ত বলে ধরা হয়। ফলে বর্তমান তাপমাত্রা ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হওয়ার পক্ষে সহায়ক হতে পারে।
১৮ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে বা ১৯ সেপ্টেম্বর ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তারপর সেটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নাগাদ সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কবে, ল্যান্ডফল কোথায়?
আবহবিদ জানালেন, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী কোনও অঞ্চলের দিকে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ বা শক্তি সম্পর্কে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। ২২ সেপ্টেম্বরের পর তার অবস্থান এবং গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে। সেই সময় এটি কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পুরী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।এছাড়া উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হলে তার প্রভাবও সিস্টেমটির গতিপথে পড়তে পারে।
তবে আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ঠিক কোথায় ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়বে, তা নিয়েও এখনই কোনও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। ২২ সেপ্টেম্বরের পর একটা আভাস দেওয়া সম্ভব।
১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের আবহাওয়া
স্থলভাগে প্রবেশের আগে অর্থাৎ ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল ভূখণ্ড থেকে আর্দ্রতা টেনে নেওয়ার কারণে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং রাত তুলনায় ঠান্ডা হতে পারে। কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিও হতে পারে। পরবর্তী সময়ে আর্দ্রতা ফের স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করলে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার প্রবণতাও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া
২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সেই সময় ভারতের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলি বিশেষ করে উপকূলবর্তী এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাংলাদেশের কিছু এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।