
পুজো শেষ। এবার কি ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়? একাধিক আবহাওয়া মডেল বলছে, আগামী সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে একটি ঘূর্ণিঝড়। তার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাতেও। পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি অঞ্চলে ল্যান্ডফল হতে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
ওয়েদার আল্টিমার (Weather Ultima) প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্ন থেকে মাঝারি সম্ভাবনা রয়েছে, এই ঘূর্ণাবর্তটি ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগোতে পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পরে অথবা উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
কোন পথে ঘূর্ণিঝড়
আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার কথায়,'১৯ অক্টোবর থাইল্যান্ড উপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল। সেটি মধ্য আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর দক্ষিণপূর্ব অথবা পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সময় নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই সপ্তাহান্তের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহের গোড়ায় সেটি ঘূর্ণিঝড়ের চেহারাও নিতে পারে। এর পরবর্তী গতিপথ হতে পারে উত্তরপশ্চিম দিকে মধ্য বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে পারে'। তিনি যোগ করেন,'আগামী ৫-৮ দিনে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি। এই ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি বাড়িয়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পিছনে কয়েকটি অনুকূল পরিস্থিতি কাজ করতে পারে'।
ভারতে সম্ভাব্য প্রভাবিত অঞ্চল
ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী এগোলে ভারতের একাধিক রাজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। সেগুলি হল, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানার কিছু অংশ, ছত্তিসগঢ়ের কিছু অংশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের কিছু অংশ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্য। তবে এই তালিকা সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত গতিপথ ও শক্তি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অঞ্চলকে নিশ্চিতভাবে প্রভাবিত বলে চিহ্নিত করা যাবে না।
পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী সপ্তাহের গোড়া থেকে মাঝামাঝি প্রভাব পড়তে পারে বাংলায়।
পরিস্থিতি ১: অন্ধ্রপ্রদেশ দক্ষিণ ওড়িশায় স্থলভাগে আছড়ে পড়লে
এই পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রভাব পড়তে পারে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি গতিবেগের বাতাস এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বাতাসের গতিবেগ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।
পরিস্থিতি ২: উত্তর ওড়িশা বা বাংলাদেশে স্থলভাগ
উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। দফায় দফায় জোরালো হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বইতে পারে দমকা হাওয়া। বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা।
পরিস্থিতি ৩: অন্ধ্রপ্রদেশ বা ওড়িশায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পরে পশ্চিমবঙ্গের দিকে বাঁক নিলে বা পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি স্থলভাগে আছড়ে পড়লে
এই পরিস্থিতিতে গোটা দক্ষিণবঙ্গেই প্রভাব পড়তে পারে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকাগুলিতে ঝড়বৃষ্টি তুলনামূলক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির জেরে ধস, হড়পা বান এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে পারে।
আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, এখনই নির্ভুল ভাবে গতিপথ বা স্থলভাগে আছড়ে পড়ার স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে এখনও কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে এই সপ্তাহান্তের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয় কিনা, তা দেখতে হবে।