
কুস্তিগিরদের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া যৌন হেনস্থার সোমবার মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের (WFI) প্রাক্তন সভাপতি ও BJP-র প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তাঁকে বেকসুর খালাস করে দিল্লির আদালত জানিয়েছে, মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেশ করা যায়নি। সেই কারণেই ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে খালাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার ব্রিজভূষণের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। ব্রিজভূষণের পাশাপাশি এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত বিনোদ তোমরকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি ভারতের কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সহ সচিব।
২০২৩ সালে দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। ২০২৪ সালের মে মাসে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনও চালান তাঁরা। সেই আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং ক্রীড়া মহলেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে মামলার রায়ে ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস করে দিল আদালত।
তবে আদালতের এই রায়ের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন কি না, সেটাই এখন দেখার।
এদিন বেকসুর খালাস হওয়ার পর আদালত থেকে বেরিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ব্রিজভূষণ শরণ সিং বলেন, 'আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম, আমার বিরুদ্ধে আনা কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি ফাঁসিতে ঝুলে যাব। আজ আদালত আমায় সসম্মানে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে।'