
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমাবেশে গিয়ে তেরঙা ওড়ালেও কি সেই সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে? তেরঙা মার্চের আগে প্রশ্ন তুললেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাছাড়া জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের আগেই আটক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে কি তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হবে?
অভিজিৎ অভিযোগ করেছিলেন, নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে। এমনকী, তাঁর বাড়ির উপরেও নজরদারি চালাচ্ছেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-এর কর্মীরা। শুক্রবার দলের প্রস্তাবিত তেরঙা মিছিলের আগে যে কোনও সময়ে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে অভিজিৎ দীপকে জানান, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর কথায়, 'আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গিয়ে তেরঙা ওড়াব। এই দেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা যদি এটাকে অপরাধ বলে মনে করেন, তা হলে আপনারাই সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী।'
তিনি আরও বলেন, 'এই দেশে তেরঙা ওড়ানোর জন্য যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, তা হলেও আমরা প্রস্তুত।' শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলের সদস্য এবং সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা নিয়ে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে CJP। ভোটার তালিকার SIR-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই মিছিলের ডাক দিয়েছে দলটি।
প্রতিবাদের আগেই বন্ধ সেন্ট্রাল পার্ক
বৃহস্পতিবারই নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC) ঘোষণা করে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর প্রশ্ন, আগামী দিনে যদি দলের তরফে অন্য জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়, তা হলে কি সেই সব জায়গাও বন্ধ করে দেওয়া হবে?
অভিজিৎ দীপকে বলেন, 'আগামীকাল আমরা যদি বলি, ১০০টি জায়গায় তেরঙা ওড়াব, তা হলে কি আপনারা ১০০টি জায়গাই বন্ধ করে দেবেন?' এমনকী, কোনও রাজনৈতিক সমাবেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে সেই সমাবেশও কি বাতিল করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'যদি আমরা বলি, নরেন্দ্র মোদীর সমাবেশে গিয়ে তেরঙা ওড়াব, তাহলেও কি আপনারা সেই সমাবেশ বাতিল করবেন? কী মজা করছেন আপনারা!' তিনি আরও বলেন, 'সরকারিভাবে ঘোষণা করুন, আপনারা তেরঙা ওড়াবেন না। তা হলে আপনারাই দেশদ্রোহী। আজ পর্যন্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী বা সরকার এমনটা করেনি।'
নজরদারির অভিযোগ অভিজিৎ দীপকের
নিজের উপর নজরদারি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ির বাইরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে IB কর্মীরা তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। CJP প্রতিষ্ঠাতা বলেন, 'দিল্লি পুলিশ যে কোনও সময়ে আমাকে আটক করতে পারে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে বলতে চাই, এসব করে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না।' CJP-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য মানুষকে জেলে পাঠানো হচ্ছে। অভিজিৎ দীপকের প্রশ্ন, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী তেরঙাকে এত ঘৃণা করেন কেন? তিনি যদি তেরঙাকে ঘৃণা করেন, তা হলে কি তাঁর প্রধানমন্ত্রী থাকার যোগ্যতা রয়েছে?'
কী দাবি CJP-র?
CJP প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য, তাঁদের দাবি সরকার পরিবর্তন নয়। তাঁরা চান, জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য কাউকে নিয়োগ করা হোক। অভিজিৎ দীপকে বলেন, 'আমরা শুধু বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ করুন। আমরা সরকার পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি না।'
তাঁর আরও অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কথাও শুনছেন না। তাঁকে সরানোর দাবি জানানো কি অপরাধ, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সবশেষে দেশে জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কথায়, 'এটা একটা জরুরি অবস্থা। নরেন্দ্র মোদী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন না, কারণ তা করলে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে।'