
নতুন বুলেট ট্রেন করিডরের অনুমোদনের কথা জানাল কেন্দ্র। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লি-বারাণসী-গুয়াহাটি উত্তর করিডরের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই রেলপথে আগরা, কানপুর, লখনউ, বারাণসী ও পটনা হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উত্তর ভারতের পাশাপাশি বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যাতায়াতেও বড় সুবিধা হতে পারে। তবে কবে থেকে কাজ শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দিল্লি থেকে বারাণসী যেতে কত সময় লাগবে?
রেলমন্ত্রীর দেওয়া সম্ভাব্য সময়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করিডর চালু হলে দিল্লি থেকে আগরা পৌঁছতে লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট। দিল্লি-কানপুর যাত্রায় সময় লাগতে পারে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। দিল্লি থেকে লখনউ যেতে লাগবে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছনো যাবে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটে। অন্য দিকে, দিল্লি থেকে পটনা যেতে সময় লাগতে পারে ৪ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট।
বিমানযাত্রার চেয়ে সস্তা?
বুলেট ট্রেন মানেই শুধু ধনী যাত্রীদের জন্য, এই ধারণা ভাঙতে চায় কেন্দ্র। রেলমন্ত্রীর দাবি, এই ট্রেনের ভাড়া বিমানের টিকিটের তুলনায় অনেকটাই কম রাখা হবে। দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের সাধ্যের মধ্যে পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং পর্যটকেরা এতে উপকৃত হতে পারেন।
দেশে তৈরি হচ্ছে সাতটি বুলেট ট্রেন করিডর
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে সাতটি নতুন হাইস্পিড রেল করিডরের প্রস্তাব রয়েছে। তার মধ্যে দিল্লি-বারাণসী, মুম্বই-পুণে, পুণে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি (পটনা হয়ে) রয়েছে। ফলে বাংলার উত্তরাংশের সঙ্গেও দ্রুত রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
কবে চালু হবে নতুন ট্রেন?
দেশের প্রথম মুম্বই-আমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ চলছে। ২০২৭ সালের অগস্টে পরিষেবা শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। তবে দিল্লি-গুয়াহাটি করিডরের নির্মাণের সময়সূচি এখনও ঘোষণা হয়নি। আগে রুট চিহ্নিতকরণ ও সমীক্ষা হবে। তার পর শুরু হবে নির্মাণকাজ।