
দিল্লিতে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। একদিকে যেমন CJP-র যুবকেরা বিক্ষোভ দেখাতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, এই বিক্ষোভ রুখতে রাজধানীর বুকেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার SIR ইস্যুতে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছে CJP। ফলে দিল্লির যান চলাচল ব্যবস্থা, রেল ও মেট্রো পরিষেবা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
যদিও দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। এদিকে কেন্দ্রও বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দিল্লির সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
২০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি
বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক সিকিউরিটি প্ল্যান তৈরি করেছে। রাজধানীর নয়াদিল্লি ও সেন্ট্রাল দিল্লি জেলাসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে ২০,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন এবং দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের চারপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় ৬,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের জন্য ১২টি আটক কেন্দ্র
একাধিক রিপোর্ট বলছে, দিল্লি পুলিশ ১২টি আটক কেন্দ্র তৈরি করেছে। অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা যে কাউকে আটক করে এই কেন্দ্রগুলিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমোদনহীন সমাবেশ প্রতিরোধ করা হবে এবং যারা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কর্তব্য পথের আশেপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, নয়াদিল্লির সংবেদনশীল এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ই অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্যপথ সংযোগস্থলের প্রায় চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার আদেশ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মোবাইল ইন্টারনেট প্রযুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। টেলিকম সংস্থাগুলিকে এই আদেশ মেনে চলা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিজেপি বিক্ষোভ নিয়ে এবার সতর্ক রয়েছে দিল্লি পুলিশ। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা বাস ও গাড়িগুলিতে শুরু হয়েছে চেকিং। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কর্মীদের আটক করছে পুলিশ। লোনি রাউন্ডঅ্যাবাউট সীমান্তে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। হাই সিকিউরিটি মোডে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশও।
সকাল ৯টার আগেই দিল্লির যন্তর মন্তর-এ জমায়েত হতে শুরু করেছে বিক্ষোভকারী CJP সমর্থকেরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
CJP-র বিক্ষোভ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ঘোষণা করছে। কনট প্লেসেও চলছে মাইকিং।
দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, গাড়ি চলাচল ও জনসাধারণের যাতায়াতের পথ যাতে কোনও ভাবেই রুদ্ধ করা না হয়।
দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বই থেকে রওনা দিলেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে জন্য কড়া ব্যবস্থা তৈরি রেখেছে দিল্লি পুলিশ।
শনিবারের বিক্ষোভের রেশ দেখা গিয়েছিল শুক্রবার সন্ধ্যাতেই। বেশ কয়েকটি মেইন রোডে যানজট অত্যাধিক হয়ে যায়। দিল্লি থেকে নয়ডা যাওয়ার কালিন্দী কুঞ্জ রোডে লম্বা যানজট দেখা যায়। সরিতা বিহার এবং কালিন্দী কুঞ্জের মধ্যে গাড়িগুলির গতি ছিল অত্যন্ত শ্লথ। দিল্লি-গুরগাঁও সীমান্তেও গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে।