
ভারতের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের খোলনোলচে বদলে দিতে আসছে ডিলিমিটেশন বিল। Delimitation Bill, 2026-টি আসলে কী? আজ অর্থাত্ ১৬ এপ্রিল সংসদে বিশেষ অধিবেশনে এই বিল আনছে কেন্দ্র। বস্তুত, কয়েক দশক ধরেই ভারতে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস আটকে রয়েছে। যেখানে লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে এই বিলটি ‘সংবিধান (একত্রিশ তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী বিল), ২০২৬’-এর সঙ্গে সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন বিলটির বেশ কয়েকটি বিধান ২০০২ সালের আইনের অনুরূপ, যা বাতিল করা হবে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কিছু দক্ষিণী রাজ্য প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
লোকসভা ও বিধানসভা আসনের পুনর্বিন্যাস কী?
জনসংখ্যার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ভোটকেন্দ্রের (লোকসভা বা বিধানসভা আসন) পুনর্বিন্যাস একটি দেশব্যাপী প্রক্রিয়া। জনগণনার পর একটি কমিশন এই কাজটি করে থাকে এবং এর আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।
বিলের মূল বিধানসমূহ
লোকসভা আসন বৃদ্ধি: এই বিলে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য ৮১৫টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য ৩৫টি আসন রয়েছে।
পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন: এই বিলটি নির্বাচন কমিশনকে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনী এলাকাগুলিতে আসনের পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা দেয়, তবে তা কেবল তখনই যখন এলাকাটি পাকিস্তানের দখলমুক্ত হবে।
২০২৯-এই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্য: এই বিলের সবথেকে বড় উদ্দেশ্য হল, ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটেই নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা। সাধারণত নতুন জনগণনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু এই বিল অনুযায়ী ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিলের প্রধান দিকগুলি একনজরে:
আসন পুনর্বিন্যাস: জনসংখ্যার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে অঙ্কন করা হবে।
শক্তিশালী কমিশন: সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠিত হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন কোনও বিচারপতি। সঙ্গে থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
আইনি কবচ: এই কমিশন একবার সীমানা চূড়ান্ত করে দিলে তাকে দেশের কোনও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) যদি ভবিষ্যতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সেখানেও নির্বাচন করানোর ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগ কেন?
এই পদক্ষেপটি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রধান উদ্বেগ হলো, তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, অন্যদিকে উত্তর ভারতে জনসংখ্যা বেড়েছে। এখন যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন ভাগ হয়, তবে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে এবং দক্ষিণী রাজ্যগুলির গুরুত্ব কমতে পারে।