
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবার মুখ খুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। যাঁর পদত্যাগের দাবিতে গোটা দেশের পড়ুয়ারা উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করল, আন্দোলন করল, সেই ধর্মেন্দ্র প্রধান এতদিন চুপ ছিলেন। আজ অর্থাত্ সোমবার তাঁকে দেখা গেল সংসদ ভবনে। একেবারে বীরের সম্মান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায় বিজেপি। প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বললেন, 'আমি স্ট্রিট ফাইটার। AC রুমে বসে রাজনীতি করি না।'
সংসদে ধর্মেন্দ্রকে সহানুভূতি জানান জয়রাম রমেশ
এদিন ধর্মেন্দ্র প্রধান যখন সংসদে পৌঁছন, তখন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ তাঁর প্রতি সহানুভূতি জানাতে এসেছিলেন। জয়রাম রমেশ প্রধানকে বলেন, 'এমনটা হয়েই থাকে।' প্রধান সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, 'কিছুই হয়নি। আমি স্ট্রিট ফাইটার। AC রুমে বসে রাজনীতি করি না।'শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনে পৌঁছলে এনডিএ সাংসদরা তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁর মুখে ছিল হাসি। একজন সাংসদ মন্তব্য করেন, 'এই প্রথম কোনও মন্ত্রী কোনও অভিযোগ ছাড়াই পদত্যাগ করলেন।'
ধর্মেন্দ্র প্রধান কি নতুন ভূমিকার জন্য প্রস্তুত?
ভবিষ্যতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকা কী হবে? ওড়িশা বিজেপির একজন শক্তিশালী নেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এরপর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর বিজয়ের নেপথ্যে নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ধাক্কা খাওয়ার পর, পরবর্তী হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে ইন-চার্জ হিসেবে দলের হ্যাটট্রিক জয়ে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর আগে, তিনি উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্নাটক সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইন-চার্জ হিসেবে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর বাড়িতে গিয়েছিলেন শাহ
পদত্যাগের পরও দল তাঁকে পরিত্যাগ করেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। বিজেপি নেতারা মনে করেন যে, তাঁর পদত্যাগ তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাসের লক্ষণ নয়, বরং এটি 'রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা', 'ত্যাগ' এবং 'জাতীয় স্বার্থ'এর এক মহান উদাহরণ।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য তাঁর উচ্চ মনোবলকেই নির্দেশ করে। তিনি পরবর্তী দায়িত্ব গ্রহণের জন্যও প্রস্তুত। মনে করা হচ্ছে, আসন্ন পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে দলীয় সংগঠনের মধ্যে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে অথবা তিনি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। এর আগে তিনি ২০২২ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।