
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে। আট বছরের পুরনো একটি মামলায় তাঁর গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে সমন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির সাকেত আদালত। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযোগকারীকে সমন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে আদালত। ধ্রুব রাঠির কাছে যাতে সঠিকভাবে সমন পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি।
বিকাশ সাঙ্কৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডের পুরনো একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযোগকারী সমন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীর সঙ্গে যেতে পারবেন। ধ্রুব রাঠির গুরুগ্রামের ঠিকানায় যাতে সমন যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক আইনি অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে রয়েছে বিজেপি নেতা সুরেশ করমশি নাখুয়ার দায়ের করা মানহানির মামলা। নাখুয়া দিল্লির সাকেত আদালতে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আপলোড করা একটি ভিডিয়োয় ধ্রুব তাঁকে ‘হিংস্র এবং গালিগালাজ করা ট্রোলার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই মামলাতেও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জেলা বিচারক গুঞ্জন গুপ্তার আদালত ধ্রুব রাঠিকে সমন ও নোটিস পাঠিয়েছিল।
সনাতন ধর্ম ও দেবদেবীদের নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ
ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ উঠেছে সনাতন ধর্ম ও হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অমিত সচদেব নামে এক অভিযোগকারী ধ্রুবর একটি ভিডিয়োর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ভিডিয়োয় হিন্দু দেবদেবী এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ও ২৯৯ ধারায় এফআইআর দায়েরের দাবি জানানো হয়েছে।
যন্তর মন্তরে কর্মসূচির আগে আটক হয়েছিলেন ধ্রুব রাঠি
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশের পদক্ষেপে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ তাঁর বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বার আট বছরের পুরনো মামলায় সাকেত আদালতের নতুন নির্দেশ ঘিরে ফের আলোচনায় ধ্রুব রাঠি। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার শুনানিতে আদালত কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।