Advertisement

শুধু মাকে নয়, চাকরির লোভে বাবাকেও খুন? জয়পুর কাণ্ডে আয়ুষির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

গত ৩ জুলাই জয়পুরে নীরজ শর্মাকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন তাঁর মেয়ে আয়ুষি। অভিযোগ, গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত চলাকালেই রাকেশ শর্মা দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া বিজয় শর্মার মৃত্যুও স্বাভাবিক ছিল না।

জয়পুর হত্যাকাণ্ড।-ফাইল ছবিজয়পুর হত্যাকাণ্ড।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 11 Jul 2026,
  • अपडेटेड 2:31 PM IST
  • আয়ুষির বিরুদ্ধে মাকে খুনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই সামনে এল আরও বিস্ফোরক দাবি।
  • এ বার নিহত নীরজ শর্মার ভাই তথা আয়ুষির মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, শুধু মা নীরজ নন, সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভে নিজের বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যুর সঙ্গেও আয়ুষির যোগ থাকতে পারে।

আয়ুষির বিরুদ্ধে মাকে খুনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই সামনে এল আরও বিস্ফোরক দাবি। এ বার নিহত নীরজ শর্মার ভাই তথা আয়ুষির মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, শুধু মা নীরজ নন, সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভে নিজের বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যুর সঙ্গেও আয়ুষির যোগ থাকতে পারে। তাঁর এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দাবিগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৩ জুলাই জয়পুরে নীরজ শর্মাকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন তাঁর মেয়ে আয়ুষি। অভিযোগ, গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত চলাকালেই রাকেশ শর্মা দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া বিজয় শর্মার মৃত্যুও স্বাভাবিক ছিল না।

পরিবারের দাবি, বিজয় শর্মা সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরি পান স্ত্রী নীরজ শর্মা, কারণ তাঁদের প্রতিবন্ধী সন্তান ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই চাকরি নিজের নামে পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই মায়ের প্রতি আয়ুষির ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।

রাকেশ শর্মার অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর বিজয় শর্মার চিকিৎসা চলছিল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু সেই সময় আয়ুষি ও তাঁর তুতো ভাই বলরাম চিকিৎসার দায়িত্ব নিজেরা নেন এবং বিজয়কে বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়ে যান। অভিযোগ, প্রায় তিন মাস পরিবারের কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। আয়ুষি বারবার পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করতেন যে তাঁর বাবা ভালো আছেন।

রাকেশের দাবি, তিন মাস পর হঠাৎ জানানো হয় যে বিজয় জয়পুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি। সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কীভাবে এমন অবস্থা হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পরিবার পায়নি। পরে আয়ুষিই বাবাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement

অভিযোগ আরও গুরুতর। রাকেশ শর্মার দাবি, বিজয়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের সমস্ত ব্যবস্থা করেন আয়ুষি ও বলরাম। এরপর আয়ুষি পরিবারকে জানান, বাবার চাকরি তিনিই নেবেন এবং সেই অনুযায়ী আবেদনও করবেন।

রাকেশ আরও দাবি করেছেন, বাবার মৃত্যুর আগে একবার নীরজ শর্মার সঙ্গে তীব্র বচসার সময় আয়ুষি হুমকি দিয়েছিলেন, 'বাবার ফিডিং টিউব খুলে দিলে এক মুহূর্তও লাগবে না।' এমনকি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসেও তিনি লিখেছিলেন, 'আর দু’দিন পরেই নিজের মতো করে বাঁচতে পারবেন।'

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বিজয়ের চিকিৎসার নথিপত্র নাকি আয়ুষি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন। অভিযোগ, ২০২৪ সালে বিজয়ের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের তা জানানো হয়নি। ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তাঁরা প্রথম সেই তথ্য জানতে পারেন।

অন্যদিকে, জেরায় আয়ুষি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি তাঁর মাকে পছন্দ করতেন না। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতিবন্ধী ভাইকে বেশি গুরুত্ব দিতেন নীরজ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আয়ুষি স্বীকার করেছেন যে বলরামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে বাবার মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। রাকেশ শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement