Advertisement

TMC-র ২০ বিদ্রোহী MP-কে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট, এ বার কী হবে?

২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দাখিল করা এই সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিষেক। সেই মামলায় মঙ্গলবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ ২০ জন সাংসদকে নোটিশ ইস্যু করে বক্তব্য জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

দলবদল নিয়ে অভিষেকের করা মামলায় সুদীপ-কাকলিদের নোটিশ সুপ্রিম কোর্টেরদলবদল নিয়ে অভিষেকের করা মামলায় সুদীপ-কাকলিদের নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 25 Aug 2026,
  • अपडेटेड 1:14 PM IST

২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দাখিল করা এই সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিষেক।  সেই মামলায় মঙ্গলবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ ২০ জন সাংসদকে নোটিশ ইস্যু করে বক্তব্য জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের  প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকার ও সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন শুনতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট রাজি হয়। সেইসঙ্গে  প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত  বেঞ্চ অভিষেকের আবেদনের ভিত্তিতে ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিশ জারি করেছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে তিনি লোকসভার স্পিকার এবং সদনের মহাসচিবের কার্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছেন। তৃণমূলত্যাগী ২০ NCPI সাংসদকে নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি ২ সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।  ওই ২০ সাংসদের প্রত্যেককেই নিজেদের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। 

এদিকে এই মামলায় তৃণমূল নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এই ২০ জন সাংসদ বেআইনি কাজ করেছেন। দেখা যাক তাঁরা কীভাবে নতুন দল গঠন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে এই ধরনের মামলা ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, অথচ স্পিকার গত ২ মাস ধরে ওই ২০ জন বিদ্রোহীর বিষয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা লোকসভা থেকে প্রক্রিয়া শুরু করেছি, বিধানসভাতেও দলত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' 

প্রসঙ্গত, ২০ জন তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদনে সংবিধানের দলত্যাগ-বিরোধী বিধান মেনে সাংসদদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অযোগ্যতার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য স্পিকারকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে গত ২৭ জুলাই স্পিকারকে লিখিতভাবে স্মরণ করানোর পর ১২ অগাস্ট ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বলে সূত্রের খবর। তারপরও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক। উল্লেখ্য,  তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিদ্রোহের পর দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে যোগ বা সংযুক্তির ঘোষণা করেন। তাঁরা লোকসভায় পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিও জানান। পরবর্তী সময়ে সংসদে ওই সাংসদদের NCPI গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাঁরা NDA-র সংসদীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেন। তৃণমূলের দাবি, ওই সাংসদরা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগদান বা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দলীয় সদস্যপদ স্বেচ্ছায় ত্যাগ করার সমান। সেই কারণে সংবিধানের দলত্যাগ-বিরোধী আইনে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত বলে দাবি তৃণমূলের। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁদের এই পদক্ষেপ বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি বা সংযুক্তিকরণ এবং তা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না। এই নিয়েই তৃণমূল ও বিদ্রোহী শিবিরের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement

Read more!
Advertisement
Advertisement