
Trump Praises Modi And India: “আই লাভ মোদী, ও আমার দারুণ বন্ধু, আমি ওর মস্ত বড় ফ্যান” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে খোদ ভারতের রাজধানী দিল্লির বুক থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ভার্চুয়াল বার্তা ছিটকে আসতেই যেন এক লহমায় আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় নতুন করে শোরগোল পড়ে গেল। শুধু ভালোবাসা উজাড় করাই নয়, ট্রাম্প বুক ঠুকে আশ্বাস দিয়েছেন, “ভারত আমেরিকার ওপর ১০০ শতাংশ ভরসা রাখতে পারে। ভারতের যখনই কোনও সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে, আমেরিকা সবসময় তার পাশে এসে দাঁড়াবে।” আমেরিকার ‘ফ্রিডম ২৫০’ (Freedom 250) অভিযানের অঙ্গ হিসেবে নতুন দিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপম’-এ মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক জমকালো বিশেষ অনুষ্ঠানে মোদী-ট্রাম্প সম্পর্কের রসায়ন দেখল বিশ্ববাসী।
এদিনের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে দুই দেশের একঝাঁক শীর্ষ স্তরের আধিকারিক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে সশরীরে হাজির ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর। রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর নিজেই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই লাইভ ভার্চুয়াল বার্তাটি শোনান। সেই সঙ্গে ট্রাম্প-মোদি রসায়নের এক ভেতরের খবর ফাঁস করে সের্জিও গোর বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখনই আমার সঙ্গে কথা বলেন, প্রতিবারই খোঁজ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। উনি প্রায়ই আউড়ে যান, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদী কেমন আছেন?” মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে দেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক কোনও নতুন বিষয় নয়, বরং তা দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। দিল্লির এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজপথেও ছিল ভিন্ন ছোঁয়া। এই ‘ফ্রিডম ২৫০’ অভিযানের প্রচার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে খোদ দিল্লির রাস্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সাঁটানো অটো-রিকশাও ছুটে বেড়াতে দেখা গিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্প ও মোদীর ব্যক্তিগত রসায়ন বরাবরই এক বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ২০১৯ সালে আমেরিকার হিউস্টনে হওয়া ঐতিহাসিক ‘হাউডি মোদী’ (Howdy Modi) এবং ২০২০ সালে আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘নমস্তে ট্রাম্প’ (Namaste Trump) অনুষ্ঠান দুটিই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বা কূটনৈতিক জটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যে কানাকানি বা ফিসফাস চলছিল, তা এদিন কার্যত ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও এই সম্পর্কের ভাঙন বা দুর্বলতার জল্পনাকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মানে এই নয় যে ভারতের থেকে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। আমেরিকা ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য অংশীদার বলেই মনে করে।
বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং ‘কোয়াড’ (Quad ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার অক্ষ) অংশীদারিত্বের হাত ধরে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আগের চেয়ে ঢের বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ভার্চুয়াল ভাষণে ট্রাম্প নিজের দেশের রেকর্ড ভাঙা অর্থনীতি এবং শেয়ার বাজারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে এই কৌশলগত এবং প্রযুক্তি ও শক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। ট্রাম্পের এই বিশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক দৌত্য চলছে। আগামী মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ (G7 Summit) সম্মেলনে মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বিশ্ব নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা এই সম্পর্ককে আগামী দিনে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।