
ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে। এটি পরিণত হয়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। এই সাইক্লোন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যার জন্য সোমবার চারটি রাজ্য ও পুদুচেরিতে সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র। এক্ষেত্রে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, ছত্তীসগঢ় এবং পুদুচেরিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যানসেল করা হয়েছে ৫৩টি ট্রেন। কলকাতা থেকেও বাতিল রয়েছে ৪টি ট্রেন।
কোথায় রয়েছে অর্ণব?
আবহাওয়া দফতরের আপডেট অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তি বাড়িয়েছে। এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র উপকূলে এটি আছড়ে পড়তে পারে।
রেল চলাচল ব্যাহত
ঘূর্ণিঝড় আসছে। যার জন্য ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবাও। ২৭ ও ২৮ অক্টোবর, অর্থাৎ মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মোট ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক রুটে এই বাতিলের প্রভাব পড়েছে। বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, মাচিলিপটনম, নারসাপুর, ভীমাভরম, কাকিনাড়া পোর্ট, গুন্টুর এবং বিশাখাপত্তনমের সঙ্গে সংযোগকারী ট্রেনগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন দু'দিনই বাতিল থাকছে, আবার কিছু ট্রেন বাতিল থাকবে ২৭ অথবা ২৮ অক্টোবর।
কলকাতাতেও ট্রেন বাতিল
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জন্য কলকাতাতেও ট্রেন বাতিল। এক্ষেত্রে ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সেগুলি হল-
১. ১৮১০৭ রাউরকেলা–জগদলপুর এক্সপ্রেস: ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
২. ১৮১০৮ জগদলপুর–রাউরকেলা এক্সপ্রেস: ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
৩. ১৮০০৫ হাওড়া–জগদলপুর এক্সপ্রেস: ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
৪. ১৮০০৬ জগদলপুর–হাওড়া এক্সপ্রেস: ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখল কেন্দ্র
ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়তে চলেছে। তার আগে প্রস্তুতি ও ত্রাণের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির (NCMC) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন।
এক্ষেত্রে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) দল মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেনা, নৌসেনা, বায়ুসেনা এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য নিজেদের দলকে প্রস্তুত রেখেছে। এই সময় ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় জোরকদমে প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। উপকূলবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ওড়িশার দক্ষিণের ছ’টি জেলা- গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রস্তুতির তদারকির জন্য আট জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা।
পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতেও ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিংয়ে ধসের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ২৬ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।