
খাতায় কলমে সারা ভারতে বর্ষা। অ্যাক্টিভ রয়েছে মৌসুমি বায়ু। তারপরও গরম কমছে কই! উল্টে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক দিনে কষ্ট আরও বাড়তে পারে।
আসলে বর্তমানে দেশের একাধিক শহরে রিয়েল (বাস্তব) তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু 'ফিলস লাইক' বা অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলছে।
যদিও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার এহেন বৃদ্ধি তাপপ্রবাহ নয়। বরং আবহাওয়াবিদরা একে 'মনসুন ব্রেক' বা বর্ষার বিরতি বলছেন। এই আবহাওয়া সিস্টেমেরে জেরেই চলতি সপ্তাহে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কেন কষ্ট হচ্ছে বেশি?
এই বিষয়টারও ব্যাখ্যা করেছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, এর মূল কারণ আর্দ্রতা। আসলে মানুষের শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে সমস্যা বাড়ে। তখন ঘাম সহজে শুকোতে চায় না। ফলে শরীর থেকে তাপ বেরতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে রিয়েল টেম্পারেচারে তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়।
বিজ্ঞানীরা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মিলিয়ে হিট ইনডেক্স বা অ্যাপারেন্ট টেম্পারেচারের হিসেব করেন। এটিই বলে দেয়, বাস্তবে শরীর কতটা গরম অনুভব করবে।
উদাহরণ হিসেবে, ভুবনেশ্বরে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৬৩ শতাংশ থাকলে হিট ইনডেক্স পৌঁছে যায় ৪৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চেন্নাই ও লখনউতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এই মনুসন ব্রেক কী?
চলতি বছর ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু গোটা দেশ জুড়ে সক্রিয় হয়। এর ফলে টানা বৃষ্টি শুরু হয় বর্ষাকালে। বৃষ্টির ঘাটতিও অনেকটাই পূরণ হয়েছে।
কিন্তু ১০ জুলাইয়ের পর থেকে মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর দিকে, নির্দিষ্ট করে বললে হিমালয়ের পাদদেশে সরে যায়। এর ফলে মধ্য, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ কমে। শুষ্ক বায়ুর প্রভাব বাড়ে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে মধ্য ও দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। তবে বৃষ্টি কমলেও আর্দ্রতা একেবারে মিলিয়ে যায় না। আকাশ পরিষ্কার হয়ে সূর্যের প্রতাপ আরও বাড়ে। সেই তাপের সঙ্গে আর্দ্রতা মিলেই হিট ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায় বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
কোন শহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তির আশঙ্কা?
উপকূলবর্তী এবং পূর্ব ভারতের শহরগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন সময় আসছে। কারণ, সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্র বাতাস ক্রমাগত পরিবেশে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে রাখছে।
মুম্বইয়ে প্রকৃত তাপমাত্রা মাত্র ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও ৭০ শতাংশ আর্দ্রতার কারণে হিট ইনডেক্স পৌঁছেছে ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
অন্যদিকে দিল্লি ও শ্রীগঙ্গানগরেও হিট ইনডেক্স ৪৫ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।
এটি কি তাপপ্রবাহ?
৯ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আইএমডি-এর পূর্বাভাসে তাপপ্রবাহের কোনও সতর্কতা নেই। তবে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই মাসে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি শুষ্ক লু নয়, বরং অত্যধিক আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর গরম। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের গরমও সমান বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু এবং যারা দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য। তাই একটু সাবধান হন।