
সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবার তুমুল বৃষ্টির সম্ভাবনা। এমনটাই জানিয়েছে দেশের সরকারি আবহাওয়া সংস্থা আইএমডি। আসলে বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হয়েছে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকা। আর সেটি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। যার জেরে ফের নতুন করে সক্রিয় হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। সেই কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পূর্ব ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, বর্তমানে নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় ওড়িশা ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। ধীরে ধীরে এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে। যার জন্য ভাল বৃষ্টি হবে পূর্ব ও মধ্য ভারতে। একাধিক রাজ্য ভিজবে।
কোথায় কোথায় ভারী বৃষ্টি?
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে।
আইএমডি জানিয়েছে, ৩১ অগাস্ট, সোমবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়ে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটির অবস্থান বদলে যাবে। উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যেতে পারে। যেই কারণে ১ সেপ্টেম্বরের পরই বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছে, ছত্তীসগঢ় এবং মধ্য ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর ভারতেও ফিরছে বৃষ্টি
এই নিম্নচাপ এবং মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে উত্তর ভারতের উপর পড়বে। যার ফলে বেশ কিছু এলাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
IMD জানিয়েছে, ৩১ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পঞ্জাব এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে বিচ্ছিন্ন থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষার শেষের মাস
সেপ্টেম্বর হল ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর শেষ মাস। এই মাসেই বিদায় নিতে পারে বর্ষা। তবে এরপরও গোটা দেশে একইভাবে বর্ষা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূলত পূর্ব, মধ্য এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশেই বর্ষার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর এটাই আপাতত ভাল খবর। এর ফলে বিস্তির্ণ অঞ্চলে বর্ষার ঘাটতি কমতে পারে।