
ভারতে পেট্রোলের দিন ফুরনোর পথে? যেভাবে সরকার ইথানলকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে, তাতে ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট। এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকার জানাল, পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর প্রক্রিয়া একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হবে আগামী বছর।
ইথানলে ইঞ্জিনের ক্ষতি?
পেট্রোলের ইথানল মেশানো নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। অনেকের অভিযোগ, ইথানলের জেরে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া মাইলেজও কমে যাচ্ছে। এদিকে, সরকার এই আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেছে। সরকারের দাবি, E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন বা যান্ত্রিক ক্ষতি হয়, এমন কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। বরং এই নীতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে, কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করবে এবং পরিবেশের পক্ষেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইথানল বরাদ্দ বাড়ানোর আবেদন
এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত পেট্রোলিয়াম কর্নাটক হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানায়। বিষয়টি ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ইথানল বরাদ্দ সংক্রান্ত। গত ২৩ জুন কর্নাটক হাইকোর্ট তার নির্দেশে ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং ইন্ডিয়ান অয়েল-সহ তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (OMCs) একটি ডিস্টিলারির আবেদন বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়। ওই সংস্থা ২০২৫-২৬ সালের জন্য তাদের ইথানল বরাদ্দ বাড়ানোর আবেদন করেছিল। আদালত জানায়, টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সেই আবেদন খতিয়ে দেখতে হবে।
পরীক্ষামূলক ভাবে কেন্দ্র ২০ শতাংশ ইথানল
কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামনি জানান, ইথানল বরাদ্দের প্রক্রিয়া ২০২৫ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়ে গিয়েছি। সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তিগুলিও চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এখন যদি কোনও একক সংস্থার জন্য বরাদ্দ নতুন করে বিবেচনা করা হয়, তাহলে তা গোটা দেশের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ব্যাহত করতে পারে। তাঁর কথায়, 'পরীক্ষামূলক ভাবে কেন্দ্র ২০ শতাংশ ইথানল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের রেজাল্ট পাওয়া যাবে।'
অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যুক্তি দেন, যদি কোনও একটি সংস্থার ইথানল বরাদ্দে পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে অন্য সংস্থাগুলিও একই ধরনের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। এর ফলে একাধিক মামলা তৈরি হবে এবং গোটা ইথানল সরবরাহ ব্যবস্থাই ব্যাহত হতে পারে। তিনি জানান, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচির সমন্বয়কারী সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মোট প্রায় ১,৭৫৯ কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের প্রস্তাব পেয়েছে।
ইথানলের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য
শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল ইন্ডিয়া টুডে-কে স্পষ্ট করে জানান, পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এটি পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে বিভিন্ন সংস্থাকে কতটা ইথানল বরাদ্দ করা হবে, তা চাহিদা ও অন্যান্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বাড়তে বা কমতে পারে। ভারত ২০২৫ সালেই নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল সরবরাহ শুরু করেছে। এবার সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।