
কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়করি প্রথম থেকেই ই২০ পেট্রোলের জন্য গলা ফাটিয়েছেন। এমনকী তিনি এই পেট্রোলের সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে সামনে আনতে, যাঁর গাড়ি বা বাইক ইথানল মেশানো পেট্রোলের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই চ্যালেঞ্জেরই পাল্টা দিলেন সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা। তিনি দাবি করেছেন, একজন নয়, ছয়জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের গাড়িতে ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের পর সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে পুনালাওয়ার একমাত্র শর্ত, গড়করি যেন সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বুধবার ইন্ডিয়া টুডে টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গড়করি বলেছিলেন, ই২০ পেট্রোলের কারণে কোনও গাড়ি, বাইক বা স্কুটার নষ্ট হয়েছে, এমন একজনেরও প্রমাণ কেউ দিতে পারেননি। তিনি জানান, কেউ অভিযোগ করলে সরকার তা তদন্ত করবে। যদি প্রমাণিত হয় যে ইথানল মেশানো জ্বালানির কারণেই ক্ষতি হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
'আমাদের কাছে ৬ জন আছেন'
গত রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে টিম ভারত-এর ব্যানারে ই২০ পেট্রোলের বিরুদ্ধে প্রথম বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন তেহসিন পুনাওয়ালা। বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, গড়করির চ্যালেঞ্জ তাঁরা নিয়ে নিয়েছেন।
পুনাওয়ালা বলেন, 'আমাদের কাছে এমন ছয়জন রয়েছেন আছেন, যাঁদের গাড়িতে ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের পর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছি না। যদি তাঁর বাড়িতে যাই, তাহলে আমাদের আটক বা গ্রেফতার করা হতে পারে।'
সংবাদমাধ্যমের সামনেই বৈঠকের দাবি
ভিডিও বার্তায় পুনাওয়ালা বলেন, 'আপনিই চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তাহলে আমাদের সঙ্গে দেখা করার সময় দিন। দিল্লি পুলিশ বা আপনার দফতরে বৈঠকের ব্যবস্থা করুক। তবে আমাদের একটাই শর্ত, বৈঠকটি সংবাদমাধ্যমের সামনে এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে হতে হবে। আমরা সেই মানুষদের সামনে আনব, যাঁদের গাড়িতে ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের পর সমস্যা হয়েছে।'
স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে গড়করি দাবি করেছিলেন, তাঁর পরিবারের ইথানল ব্যবসায় অংশ মাত্র ০.০৭ শতাংশ। যার ফলে ফলে এই পেট্রোলের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের প্রশ্নই ওঠে না।
এর পাল্টা জবাবও দিয়েছেন পুনাওয়ালা। তিনি বলেন, 'আপনি বলেছেন, আপনার পরিবারের অংশ মাত্র ০.০৭ শতাংশ। কিন্তু আপনার দুই ছেলে ইথানল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই ব্যবসা থেকে বছরে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার আয় হতে পারে। আর সেই ব্যবসা ক্রমেই বাড়ছে। তাই এখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন থেকেই যায়।' তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এটি যেন 'বেটা বাড়াও' প্রকল্প।
কী বলছে সরকার?
সরকারের দাবি ছিল, ইথানল মেশানো পেট্রোলের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো। কৃষকদের আয় বাড়ানো ও দূষণ কমানো। সেই মতো ২০১৮ সালের জাতীয় জৈব জ্বালানি নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ই২০ চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সরকার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে ই২০ লক্ষ্য পূরণ করে। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালে সমস্ত পেট্রোল পাম্পে এর সরবরাহ শুরু হয়।
কী অভিযোগ করছেন গাড়ির মালিকরা?