Advertisement

El Nino Alert: ডিসেম্বরেই এল নিনো অতি শক্তিশালী, এবার কি শীত পড়বে? বড় আপডেট WMO-র

ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। এটি চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে ডিসেম্বরে। তার ফলে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হল, এল নিনোর জন্য কি শীত পড়বে না? আপডেট দিল WMO।

এল নিনো নিয়ে বড় আপডেট (ছবি: উইন্ডি ও পিক্সেলস)এল নিনো নিয়ে বড় আপডেট (ছবি: উইন্ডি ও পিক্সেলস)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 08 Oct 2026,
  • अपडेटेड 4:30 PM IST
  • অ্যাক্টিভ রয়েছে এল নিনো
  • এটি চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে ডিসেম্বরে
  • এল নিনোর জন্য কি শীত পড়বে না?

শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো। তাই এবার সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO। ইতিমধ্যেই Global Seasonal Climate Update দিয়েছে তারা। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হবে। আর ডিসেম্বর নাগাদ এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। এর প্রভাবে ভারতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এমনকী কমতে পারে বৃষ্টিপাত। যার ফলে বিপদ বাড়বে। শীত পড়া নিয়েও চিন্তা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। এল নিনো এর আগেও একাধিকবার তৈরি হয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের এল নিনো বিশেষভাবে সতর্ক করছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।  

ভারতের আবহাওয়ায় কী প্রভাব?
বিষয়টা নিয়ে সচেতন করেছে WMO। তারা জানিয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর তাতেই বাড়ছে চিন্তা। কারণ, এই পূর্বাভাস এমন সময় এল, যখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর মরসুম সব শেষ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে রবি ফসলের চাষ শুরু হচ্ছে। যার ফলে অক্টোবর-ডিসেম্বরের বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও WMO অবশ্য জানিয়েছে, এল নিনোর এহেন পূর্বাভাসকে স্থানীয় আবহাওয়ার ফোরকাস্টের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে নয়া এই রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারত ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির স্বাভাবিক ধরন বদলে যাওয়ার রয়েছে।

তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাবে কিছু জায়গায়। WMO-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়ার উপকূলের অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু অংশে শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ডিসেম্বরেও গরম?
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরেই শক্তিশালী হবে এল নিনো। যার ফলে ভারত ও এশিয়ার তাপমাত্রা নিয়ে আশঙ্কা থাকছে। WMO জানিয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে বিশ্বের বড় অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে তাপমাত্রা। এর জন্য গড় তাপমাত্রা বাড়বে। আর এটাই খারাপ খবর। এমনটা হলে, ডিসেম্বরের শীত নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

বিষয়টা নিয়ে বিশদে জানিয়েছেন, WMO-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, 'এল নিনো পুরোপুরি তৈরি হয়ে গিয়েছে। দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এটি। WMO-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এটি স্থায়ী থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এটি অন্তত ১৯৫০ সালের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।'

এল নিনোর শক্তি পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক Niño 3.4 Index। ২০২৬ সালের জুনে এই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এটি প্রায় +৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। 

আবার ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD)। WMO জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে পজিটিভ IOD সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এরপর সেটা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এর মৌসুমি বিচ্যুতি প্রায় +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। সেটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।

সাউলো বলেন, 'এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ বাড়ায় না। সমুদ্রের পৃষ্ঠের নীচে আগে থেকেই জমে থাকা তাপকে এটি সমুদ্রের বাইরে বের করে আনে।' 

WMO-র মতে, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারত ও এশিয়ার কৃষি, জলসম্পদ, বিদ্যুতের চাহিদা, স্বাস্থ্য এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থার উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। কম বৃষ্টি হলে সেচ ও জলাধারের উপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। গরমজনিত স্বাস্থ্যের সমস্যাও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement