
এল নিনোর এফেক্ট পড়ছে গোটা দেশজুড়ে। যার জেরে বর্ষা-পরবর্তী সময়েও মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতে। বিশষজ্ঞরা বলছেন,এর মূল কারণ এল নিনো সিস্টেমের শক্তিশালী হওয়া। যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর প্রভাব ফেলছে।
IMD-র তরফে বলা হচ্ছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে পূর্ব-মধ্য এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
২০২৬-এর শেষেও আসতে পারে শক্তিশালী El Nino
IMD-র মনসুন মিশন কাপলড ফোরকাস্ট সিস্টেম এবং অন্য একাধিক বৈশ্বিক জলবায়ু মডেল অনুসারে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এল নিনো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরফলে আগামী মাসে ভারতের আবহাওয়ার উপর এল নিনোর প্রভাব দৃশ্যমান হতে পারে।
তবে, এল নিনোর প্রভাব সারা ভারতে একরকম নাও হতে পারে। এর মানে এই নয় যে দেশের সব অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে। কিছু এলাকায় স্বাভাবিক বা এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতও হতে পারে।
আগামী তিন মাস দক্ষিণ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস দক্ষিণ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরলম ও কর্ণাটকের কিছু অংশ উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বৃষ্টির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগর থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ধরনকেও প্রভাবিত করতে পারে। একটি নিরপেক্ষ আইওডি এল নিনোর প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশমিত করবে বলে আশা করা যায় না।
পেঙ্গুইনের উপর El Nino-র প্রভাব
এল নিনোর প্রভাব পড়েছে পেঙ্গুইনদের উপরেও। পুন্তা সান হুয়ান পেরুর দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ১৩৩ একরের একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা। এই আবাসস্থলটি হামবোল্ট পেঙ্গুইন এবং অন্য অনেক সামুদ্রিক পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে, বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব এখানে প্রচুর পেঙ্গুইনের মৃত্যুর কারণ হয়। এর পরে এল নিনো এবং সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঙ্গুইনদের পক্ষে খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একসময় এখানে প্রায় ৩,০০০ পেঙ্গুইনের আবাসস্থল ছিল। কিন্তু ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের সংখ্যা ৫০০-এরও কমে নেমে আসে।