
দুনিয়ার মহাসাগরের জল ক্রমশ গরম হয়েই চলেছে। আর দ্রুততার সঙ্গে গরম হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের জল। আমেরিকার মৌসম বিভাগ এনওএএ ১৪ মে সতর্ক করে দিয়েছে যে এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮২ শতাংশ। এই বছরের শেষেই একটা শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে চলেছে। এই স্থিতিতে সমুদ্রের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এল নিনো কী?
প্রশান্ত মহাসাগরে এক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া চলে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু বছর অন্তর অন্তর গরম জল জমা হয়। তারপর সেটি ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সারা বিশ্বেই বৃষ্টির ধরনে বদল আসে। আর আশঙ্কা করা হচ্ছে এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও।
আসলে জুন থেকে সেপ্টম্বরের মধ্যে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষা আসে। এটাই দেশের লাইফলাইন। এর মাধ্যমেই চাষের জমিতে জল আসে। তথ্য বলছে, আমাদের দেশের মাত্র ৫৫ শতাংশ জমিতে সেচের মাধ্যমে জল আসে। বাদবাকি ক্ষেত্রে বর্ষার জলের উপরই নির্ভরশীল।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর কী জানাচ্ছে?
ভারতীয় মৌসম বিভাগ বা আইএমডি জানিয়েছে, এই বছর দেশে বর্ষা কমতে পারে। বৃষ্টিপাত ৯২ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, আইএমডি জানিয়েছে, ৩৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দুর্বল বর্ষার। আর ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের থেকে নীচে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে মে মাসের শেষ দিকে আবার নতুন করে বর্ষার আপডেট দেবে আইএমডি।
ঝামেলা কি বাড়ছে?
এই সমস্যাকে আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। কারণ, চলতি বছরের এপ্রিল মাসটা ছিল মহাসাগরের সবথেকে উষ্ণ এপ্রিলের মধ্যে একটা। এল-নিন এখন আগের থেকে অনেক বেশি মহাসাগরের উপর তৈরি হচ্ছে।
আগের এল নিনোর সময় কী হয়েছিল?
২০০২, ২০০৪ এবং ২২০৯-এর এল নিনোর সময় ধান, বাজরা সহ একাধিক খারিফ শস্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়েছিল। বিজ্ঞানীরা দেখেছিলেন, সেই সময় ধান উৎপাদনে খুবই সমস্যা হয়েছিল। কোনও কোনও জেলায় ১০ শতাংশের থেকে কম হয়েছিল ফসল।
কিছু ভাল খবরও রয়েছে
মাথায় রাখতে হবে, এলনিনো এলেই দেশে খড়া হয় না। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আফ্রিকার পাশে গরম জলের ক্ষেত্র রয়েছে। যার ফলে ভারত অতিরিক্ত আর্দ্রতা টেনে নিতে পারে। তার ফলে ভাল বর্ষার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্ষা ঠিক ঠাক না হলেই বিপদ
মাখায় রাখতে হবে, বর্ষা কমলেই বড় বিপদ। এর ফলে ফসল কমতে পারে। বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম। কৃষকেরা সমস্যায় পড়বেন।
ভবিষ্যতের বিপদ
মাথায় রাখতে হবে, এল নিনো আসে যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই গরমের সাইকেল বারবার আসছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এমনটা চলতে থাকলে ভারতের কৃষি ব্যবস্থার উপর সঙ্কট নেমে আসতে পারে।