Advertisement

El-Nino Prediction: ২০২৭-এও বর্ষা গিলে খাবে এল নিনো? খরা পরিস্থিতির আশঙ্কা

এই এল নিনো কেবল আরেকটি সাধারণ আবহাওয়া চক্র হবে না; এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সুপার এল নিনোতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঐতিহাসিক এল নিনো ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে বিশ্বের অনেক অংশে তীব্র খরা, প্রবল বন্যা, প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ এবং বিধ্বংসী ঝড়ের কারণ হবে।

এল-নিনোর প্রভাবএল-নিনোর প্রভাব
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 16 Jun 2026,
  • अपडेटेड 12:44 PM IST

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। বিশ্ব এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা এনওএএ (NOAA), জাপান আবহাওয়া সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট ডেটা নিশ্চিত করেছে যে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পর্ব শুরু হয়েছে। এটি কোনও সাধারণ ঋতুগত পরিবর্তন নয়; আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে ২০২৬-২৭ সালে প্রত্যাশিত এই এল নিনোটি একটি সুপার এল নিনোতে পরিণত হতে পারে, যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে।

কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই এল নিনো কেবল আরেকটি সাধারণ আবহাওয়া চক্র হবে না; এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সুপার এল নিনোতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঐতিহাসিক এল নিনো ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে বিশ্বের অনেক অংশে তীব্র খরা, প্রবল বন্যা, প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ এবং বিধ্বংসী ঝড়ের কারণ হবে, যা ইতিমধ্যেই সংগ্রামরত দরিদ্র দেশগুলিতে দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের এক নতুন ঢেউ নিয়ে আসবে।

এল নিনো কী, এ বছরের পূর্বাভাস এত উদ্বেগজনক কেন?
আবহাওয়াবিদ্যার পরিভাষায়, প্রতি কয়েক বছর পর পর ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা দুটি বিপরীত অবস্থার মধ্যে ওঠানামা করে। যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের একটি বিশাল এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাকে এল নিনো বলা হয়। যখন এই একই এলাকা অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে যায়, তখন তাকে লা নিনো বলা হয়। এই উভয় অবস্থাই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থাকে চালিত ও প্রভাবিত করে।

জেআরসি-র একটি নতুন বিশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রার কারণে সৃষ্ট ২০২৬ সালের এল নিনো পর্বটি এতটাই তীব্র হতে পারে যে এটি পূর্বের সমস্ত ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেবে। কম্পিউটার মডেল এবং সিমুলেশন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিগুলো এতটাই চরম যে বিজ্ঞানীদের কাছে সেগুলো বিশ্লেষণ করার মতো কোনো ঐতিহাসিক নজির নেই। এই এল নিনো পর্বটি প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শক্তিশালী হতে শুরু করবে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, যার প্রভাব ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

Advertisement

বৈশ্বিক আবহাওয়ার উপর প্রভাব: কোথাও খরা, কোথাও বন্যা
এই এল নিনোর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে নানা রূপে অনুভূত হবে। জেআরসি রিপোর্টটি এর সম্ভাব্য ভৌগোলিক প্রভাবকে প্রধানত দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে...

তীব্র খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়তে শুরু করায় বিশ্বের অনেক প্রধান দেশ খরার কবলে পড়বে।

অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: এই অঞ্চলগুলিতে তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দেবে, যার ফলে দাবানল এবং তীব্র জলসংকট সৃষ্টি হবে।

ভারতীয় উপমহাদেশ: এল নিনোর সবচেয়ে প্রত্যক্ষ এবং বিধ্বংসী প্রভাব পড়ে ভারতের বর্ষা ও কৃষির উপর। এই বছর ভারতে খরার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের জলসম্পদ এবং ফসলের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার সাহেল অঞ্চল: এখানে বৃষ্টিপাতের অভাবে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement