Advertisement

El Nino : হু হু করে বাড়বে তাপমাত্রা, কোথাও শুধুই বন্যা; কয়েক মাসেই প্রকৃতির মারাত্মক রূপ দেখবে বিশ্ব

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার খবর আবহাওয়ার খবর
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 16 Aug 2026,
  • अपडेटेड 6:35 PM IST
  • জলবায়ু বিশ্লেষক কলিন ম্যাকার্থির মতে, একাধিক সূচকেই এবারের এল নিনো রেকর্ড তৈরি করছে
  • এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার গতি, ভবিষ্যতে এল নিনোর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শক্তি এবং সমুদ্রের নিচে জমে থাকা তাপের পরিমাণ

প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানীদের একাংশের আশঙ্কা, এই এল নিনোর কারণে জলবায়ুর বড়সড় পরিবর্তন হবে। হু হু করে বাড়বে তাপমাত্রা। আবার কোনও কোনও অঞ্চলে চলতে পারে টানা বৃষ্টি। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ উষ্ণ জল। আগামী কয়েক মাসে সেই তাপ সমুদ্রের উপরে উঠে এলে এল নিনোর শক্তি আরও বাড়তে পারে।

বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই সুপার এল নিনোর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তবে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নয়, বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের নিচের তাপমাত্রার দিকেও বিশেষ নজর রাখছেন। কারণ, সমুদ্রের গভীরে বিপুল পরিমাণ তাপ জমে রয়েছে। সেই তাপ ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে এলে এল নিনোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

আগের বড় এল নিনোর রেকর্ড ছাড়াচ্ছে

এল নিনো নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগেও ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালে শক্তিশালী এল নিনো দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশান্ত মহাসাগরের নিচেরস্তরে যে পরিমাণ তাপ জমে রয়েছে, তা আগের ওই বড় এল নিনো ঘটনাগুলির সময়ের তুলনায় বেশি বলে বর্তমান পূর্বাভাসে উঠে এসেছে।

জলবায়ু বিশ্লেষক কলিন ম্যাকার্থির মতে, একাধিক সূচকেই এবারের এল নিনো রেকর্ড তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়ার গতি, ভবিষ্যতে এল নিনোর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শক্তি এবং সমুদ্রের নিচে জমে থাকা তাপের পরিমাণ।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ শক্তি?

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনো তৈরি হয় মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠলে। কিন্তু এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সমুদ্রের তাপমাত্রার এই পরিবর্তন বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে।

Advertisement

কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে খরা। কোনও কোনও অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা

এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল বিশ্ব তাপমাত্রা। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা গত কয়েক দশক ধরেই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যোগ হলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকদের আশঙ্কা, ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে বিশ্ব গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় সাময়িকভাবে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এই মাত্রার উষ্ণতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তবে এই তাপমাত্রা কতদিন থাকবে এবং বিশ্বের কোন কোন অঞ্চলে তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

বৃষ্টি ও খরার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন

এল নিনোর অন্যতম বড় প্রভাব পড়তে পারে বৃষ্টিপাতের উপর। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর উপরও এল নিনোর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকটি মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ বদলে যেতে পারে।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানকার কৃষি ও জলসম্পদের উপর বর্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে ভারতের কোন এলাকায় কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি

বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, অতিবৃষ্টি এবং বন্যা।

তবে বিজ্ঞানীরা এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এল নিনোর কারণে প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হবে না। কোথাও গরম বাড়তে পারে, আবার কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আঞ্চলিক প্রভাব নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া ও অন্যান্য জলবায়ু পরিস্থিতির উপর।

সব মিলিয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীদের নজর এখন আগামী কয়েক মাসের দিকে। সমুদ্রের নিচে জমে থাকা বিপুল তাপ যদি দ্রুত উপরের দিকে উঠে আসে এবং এল নিনো পূর্বাভাস অনুযায়ী শক্তিশালী হয়, তাহলে ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এল নিনোর শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হয় এবং তার সঙ্গে অন্যান্য জলবায়ু পরিস্থিতি কীভাবে কাজ করে তার উপর।

Read more!
Advertisement
Advertisement