
পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে (Petrol-Diesel Price Hike) নাজেহাল আমজনতা। বৃহস্পতিবারও শহর কলকাতা সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় বেড়েছে জ্বালানির মূল্য। এদিকে এই পরিস্থিতিতে দিন কয়েক আগে এক তৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়িই পেট্রোল পাম্প থেকে ইথানল (Ethanol) সরবরাহের সুবিধা দেওয়া হবে এবং যা পেট্রোল-ডিজেলের চেয়ে কম দামে পাওয়া যাবে। গডকড়ি আরও বলেন, পেট্রোলের দাম ১০০ পেরিয়ে গেলেও, ইথানল গ্রাহকরা লিটার প্রতি ৬০-৬৫ টাকা দরে পাবেন। এছাড়া গ্রিন ফুয়েলে পরিবেশ দূষণও কম হবে বলে মনে করেন তিনি।
এরপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইথানল ব্যবহার করলে কি সত্যিই পরিবেশ দূষণ কমবে? তাছাড়া ইথানল ব্যবহার করলে গাড়ির ইঞ্জিনের পরিস্থিতিই বা কেমন থাকবে? এই প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ দীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ইথানল ব্যবহার করলে তা পরিবেশের পক্ষে ভাল, কারণ সেটি পেট্রোল বা ডিজেলের মতো দূষণ ছড়ায় না। কিন্তু এখানে একটি সংশয়ও প্রকাশ করেছেন দীপজ্যোতিবাবু। তিনি বলেন, যখন পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির ইঞ্জিন তৈরি হয় তখন সেটি সেই নির্দিষ্ট তেলের ওপরে পরীক্ষা করেই বানানো হয়। পাশাপাশি সেই অনুযায়ী তৈরি হয় গাড়ির অন্যান্য যন্ত্রাংশও। সেক্ষেত্রে হঠাৎ করে সেই সমস্ত গাড়িতে ইথালন ব্যবহার করা হলে ইঞ্জিনের ওপরে তার কী প্রভাব পড়তে তা নিয়ে রীতিমতো সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। আর সত্যিই যদি ইঞ্জিনে প্রভাব পড়ে, তাহলে ইথানল ব্যবহারের আসল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। পথে নেমেছে কংগ্রেসও। কোথাও গরুর গাড়িতে চেপে, তো কোথাও আবার সাইকেল চালিয়ে জানানো হচ্ছে প্রতিবাদ। এমনকী এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জ্বালানির মূল্য কমার এখনও তেমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।