Advertisement

El Nino May Affect Rabi Crops : কোথাও অতি বৃষ্টি,কোথাও খরা; এল নিনোর জেরে কমতে পারে রবিশস্যের উৎপাদন

কৃষি সচিব জানান, এবারের খরিফ মরশুমও কৃষকদের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। একাধিক রাজ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সময়মতো ফসলের বীজ বোনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এরপর কোনও কোনও এলাকায় জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল বাঁচাতেও সমস্যা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 28 Sep 2026,
  • अपडेटेड 8:49 PM IST
  • রবি মরশুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে না
  • কোথাও জমিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হতে পারে

এল নিনোর প্রভাবে দেশের কোথাও অতি বৃষ্টি আবার কোথাও খরা হতে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে ফসল উৎপাদনেও। আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব আগামী রবি মরশুমে দেশের কৃষিক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যে সব এলাকায় সেচের ব্যবস্থা কম এবং কৃষিকাজ মূলত বৃষ্টির জলের উপর নির্ভরশীল, সেখানে পরিস্থিতি কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার নয়াদিল্লিতে রবি মরশুমের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত দু’দিনের জাতীয় সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানান কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব অতীশ চন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, আবহাওয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনও প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রবি চাষের জন্য এখন থেকেই আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশল তৈরি করা প্রয়োজন।

খরিফের পর রবি নিয়েও চিন্তা

কৃষি সচিব জানান, এবারের খরিফ মরশুমও কৃষকদের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। একাধিক রাজ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সময়মতো ফসলের বীজ বোনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এরপর কোনও কোনও এলাকায় জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল বাঁচাতেও সমস্যা হয়েছে।

এবার রবি মরশুমে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তার উপর উৎপাদনের বড় অংশ নির্ভর করবে বলে মনে করছেন কৃষি আধিকারিকরা। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষি এলাকাগুলিতে আগে থেকেই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কোথাও অতিরিক্ত আর্দ্রতা, কোথাও জলের অভাব

রবি মরশুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে না। কোথাও জমিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হতে পারে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত জল বা মাটিতে বেশি আর্দ্রতা থাকলে বীজ বোনা এবং ফসলের বৃদ্ধিতে সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে সেচের উপর নির্ভরতা বাড়বে। ফলে দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই কৃষকদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

কৃষি সচিবের বক্তব্যে উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করবে বলে আগে মনে করা হলেও এখন তার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Advertisement

এমনকী সেচের সুবিধা থাকা এলাকাতেও কোথাও কোথাও অসময়ে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শুধু সেচের ব্যবস্থা থাকলেই আবহাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

অক্টোবর থেকেই গম-সরষের বীজ বোনা শুরু

দেশে সাধারণত অক্টোবর মাস থেকে গম, সরষে-সহ বিভিন্ন রবি ফসলের বীজ বোনা শুরু হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রায় ৬৩৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে রবি ফসলের চাষ হয়।

এর মধ্যে ৩০০ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে গম চাষ হয়, প্রায় ১৪০ লক্ষ হেক্টরে ডালশস্যের চাষ হয়,  প্রায় ৮৭ লক্ষ হেক্টরে তৈলবীজের চাষ হয়, এবং প্রায় ৫৫ লক্ষ হেক্টরে মোটা দানাশস্যের চাষ হয়। ফলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু কৃষকদের উপর নয়, দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।

খাদ্যশস্যে আত্মনির্ভর ভারত

কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব জানিয়েছেন, খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত এখন অনেকটাই আত্মনির্ভর। তবে এখনও দেশের চাহিদা মেটাতে ডাল, তৈলবীজ এবং কিছু উদ্যানজাত পণ্য আমদানি করতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে এল নিনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব রবি ফসলের উৎপাদনে কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে গম, ডাল ও তৈলবীজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন যাতে আবহাওয়ার ধাক্কায় বড়ভাবে ব্যাহত না হয়, তার জন্য আগাম পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে কেন্দ্র।

এল নিনো কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি জলবায়ুগত পরিস্থিতি। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় পড়তে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রে বর্ষা ও তাপমাত্রার উপর এর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে এল নিনো থাকলেই নির্দিষ্টভাবে কোনও মরশুমে কতটা বৃষ্টি হবে বা ফসলের উৎপাদন কতটা কমবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির আর্দ্রতা, সেচ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জলবায়ুগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এবারের রবি মরশুমে আবহাওয়ার প্রতিটি পরিবর্তনের উপর নজর রেখে কৃষি কৌশল বদলানোই এখন বড় বিষয়। খরিফ মরশুমের অভিজ্ঞতার পর রবি ফসলেও যাতে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্র।

Read more!
Advertisement
Advertisement