
হু হু করে বাড়ছে খরচ। বাজারে গেলেই স্পষ্ট হচ্ছে গোটা চিত্রটা। আগে যেই টাকায় ব্যাগ ভর্তি বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অর্ধেকও ভরছে না। আর এটা শুধু কথার কথা নয়, বরং খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির ডেটায় এটা পরিষ্কার। তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ছে চাপ। বাজারে গিয়ে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে।
আসলে সম্প্রতি একটি তথ্য পেশ করেছে ভারত সরকার। কনজিউমার ফুড প্রাইস ইন্ডেক্স বা (সিএফপিআই)-এর নিরিখে সেপ্টেম্বরে খাদ্যে মুদ্রাস্ফীতি ৭.৭৪ শতাংশে রয়েছে। আর ওই মাসেই কনজিউমার প্রাইস ইন্ডেক্স (সিপিআই) ছিল ৫.৫৪ শতাংশ। আর তাতেই পকেটে লাগছে ছ্যাঁকা। নিত্য প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ, আদা, রসুন সহ বিভিন্ন জিনিস কিনতে গিয়ে পকেট গড়ের মাঠ হয়ে যাচ্ছে।
পেঁয়াজ, আদা, রসুন হচ্ছে মহার্ঘ
সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই বেড়েছে। আর তার কারণ পেঁয়াজ। অগাস্টে পেঁয়াজের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪৮.৭৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ১০৮.০৯ শতাংশ। অর্থাৎ পেঁয়াজের মূল্যস্ফীতির হার এক মাসে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
আবার এই তালিকায় পিছিয়ে নেই আদাও। এর দাম বেড়েছে ৬২.৮৫ শতাংশ। যদিও অগাস্টে আদার মূল্যস্ফীতির হার ছিল আরও বেশি, ৭৩.৮২ শতাংশ। ওদিকে আবার রসুনের মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪৩.৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৫৪.৬২ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। এছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে লেবুর দামও। অগাস্টে লেবুর মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১৫.১৫ শতাংশ। সেটা সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৩৬.৪১ শতাংশ।
মাথায় রাখতে হবে, আমাদের রান্নায় নিয়মিত ব্যবহার হয় পেঁয়াজ, আদা ও রসুন। সেই সঙ্গে লেবুর ব্যবহারও অনেক। যেই কারণে এই খাদ্যপণ্যগুলির দাম বাড়লে পকেটে পড়ে চাপ। পরিবারের মাসিক বাজারের খরচও বেড়ে যায়। তাই খরচ কমাতে অনেকেই কম কেনাকাটা করেন।
এই প্রসঙ্গে W by Groww-এর গবেষণা বিভাগের প্রধান ও ফান্ড ম্যানেজার নীরব কারকেরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পিছনে খাদ্যপণ্যের দাম এবং সাপ্লাইয়ের চাপ রয়েছে।
তাঁর কথায়, 'মূল্যসূচকে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব রয়েছে পেঁয়াজের। এর দাম দ্রুত বেড়েছে। তাই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির একটি বড় অংশের জন্য দায়ী এই মূল্যবৃদ্ধি।'
কারকেরা আরও জানিয়েছেন, পরিবহণ খরচ এবং বাইরে খাওয়াদাওয়ার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণেও চাপ বেড়েছে।
সব জিনিসের দাম বাড়েনি
এটা ঠিক মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে। তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম একই হারে বাড়েনি। কিছু সবজির দাম গত বছরের তুলনায় কমেছে। আর এটাই ভাল খবর।
এই যেমন সেপ্টেম্বরে আলুর মূল্যস্ফীতির হার ছিল নেগেটিভ ১১.৫০ শতাংশ। অগাস্টে এই হার ছিল নেগেটিভ ১৩.১৫ শতাংশ।
টমেটোর দামও গত বছরের তুলনায় ৮.৬২ শতাংশ কমেছে। তবে অগাস্টে টমেটোর দাম কমার হার ছিল ৩১.০৯ শতাংশ। অর্থাৎ টমেটোর দাম এখনও গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। কিন্তু অগাস্টের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
এছাড়া ঢ্যাঁড়শের দাম ৪.৪৮ শতাংশ এবং নারকেলের দাম ৩.৯৯ শতাংশ কমেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়েনি।
এছাড়া গ্রাম ও শহরের মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হারও আলাদা। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ এলাকায় খাবারে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.০৬ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই হার ছিল ৭.১৮ শতাংশ।
আর গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি নিয়েই চিন্তিত অনেকে। এই অঞ্চলের বহু পরিবার কৃষির উপর সরাসরি নির্ভরশীল। ফসলের উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে পরিবারে আয় ও খরচ, দুই দিকেই চাপ তৈরি হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি বাড়লে সঞ্চয়ে কতটা প্রভাব পড়তে পারে?
এখন অনেকেরই চিন্তা, মাসের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে কত টাকা থাকবে? আদৌ কি সঞ্চয় হবে? আর সেখানেই সমস্যার সূত্রপাত। এখন থেকে হাতে থাকবে কম টাকা। খরচ বাড়বে।
ধরা যাক, কোনও পরিবার প্রতি মাসে খাবার কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা খরচ করে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের খরচ ৭.৭৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। যার জেরে মাসিক খরচ বাড়বে প্রায় ৭৭৪ টাকা। তাতে কমবে সঞ্চয়।