
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্রিকস নিয়ে বার্তা দিলেন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। সেই বার্তায় রাখলেন ৫ বড় প্রস্তাব।
তিনি লেখেন, 'এই বৈঠকের আয়োজন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমন এক সময়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছি যখন বিশ্বজুড়ে এমন কিছু পরিবর্তন হচ্ছে, যেটা এক শতকে দেখা যায়নি। উত্থানের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলি এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।'
তবে তিনি এই সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থির পরিস্থিতি, নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। জিনপিং লেখেন, 'বিশ্বকে স্থিতিশীল ও সুন্দর করে তুলতে ব্রিকস দেশগুলিকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিতে হবে। গ্লোবাল সাউথকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়, সাস্টেনাবিলিটি রক্ষাকারী এবং ইতিবাচক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।'
এই সময় তিনি দাবি করেন,‘শক্তিই ন্যায়’-এই যুক্তির কোনও ভিত্তি নেই। এই ধারণা বহু আগেই পরিত্যাগ করা উচিত ছিল। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইনের শাসন রক্ষা করতে হবে। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধের নিষ্পত্তির মতো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তিনি লেখেন, 'গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্তৃত্ব ও ভূমিকা বজায় রাখতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে সমর্থন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমস্ত দেশের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার যেন সঠিক পথে এগোয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’-এর মর্যাদার মতো নীতিগুলি বজায় রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন নিয়ম তৈরির বিষয়েও সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে।'
তাঁর মতে, গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা আরও সহজ করতে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের সমর্থন করা উচিত। আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার ও উন্নতি প্রয়োজন, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব এবং মতামতের গুরুত্ব আরও বাড়ে।
জিনপিং বলেন, 'গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে মানুষের উন্নয়নের দর্শন নিয়েই চলতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্টের টার্গেট বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পাঁচ বছর আগে চিন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ চালু করার পর থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পার্টনারশিপ করে ২,০০০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ২ লক্ষেরও বেশি পেশাদারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে ১২০টিরও বেশি দেশের মানুষ উপকৃত হয়েছেন।'
তিনি আরও দাবি করেন,'চিন বিশ্বের জন্য তার দরজা আরও ব্যাপকভাবে খুলে দিচ্ছে। চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা আফ্রিকার ৫৩টি দেশের জন্য জিরো ট্যারিফ সুবিধা চালু করেছে।'
জিনপিংয়ের মতে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিষয়ে আরও নজর দিতে হবে। প্যারিস চুক্তি কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিতে হবে।
এই বার্তায় এআই নিয়েও বলেন জিনপিং। তিনি লেখেন, মানুষকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন করতে হবে, যাতে AI ইতিবাচক ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিশ্বে AI পরিচালন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও দ্রুত করতে হবে।
৫ প্রস্তাব দিলেন
১. চিন ব্রিকসের একটি AI ওপেন-সোর্স কমিউনিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেবে। Large Language Model-এর উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা করবে। বিশেষ AI সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করবে এবং AI-এর জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।
২. চিন একটি ব্রিকস স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব করছে। এর আওতায় দেশগুলি একটি স্মার্ট পোর্টাল তৈরি করতে পারবে। নীতিগুলির মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন চালিকাশক্তি তৈরি করতে চিন আগামী বছর ব্রিকস ফোরাম অন ট্রেড ইন সার্ভিসেস আয়োজন করবে।
৩. চিন ব্রিকস ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য কাজ করবে। পাশাপাশি ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত আদানপ্রদান এবং শিল্পক্ষেত্রে সমন্বয় ঘটানো হবে। এর মাধ্যমে যৌথভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
৪. চিন ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলিকে স্মার্ট কারখানা তৈরি করতে সাহায্য করবে।
৫. চিন ব্রিকস ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য একটি জোট তৈরির প্রস্তাব করছে। এর মাধ্যমে যৌথভাবে ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা এবং দক্ষতার মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।