
সংসদে বিরোধীদের দাবি ছিল, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদে অচলাবস্থা চলছে। সোমবার সরকার জানিয়েছে, অমিত শাহ বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। বিরোধীরা যে বিষয়গুলি তুলবেন, সরকার তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, 'সরকার ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় তুলবেন, আমরা তার জবাব দেব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দেবেন।'
আলোচনার সময় বিরোধীদের হট্টগোল না করার আবেদনও জানান রিজিজু। তাঁর কথায়, আলোচনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীদের এমন কোনও বাধা তৈরি করা উচিত নয়, যাতে তাঁর বক্তব্য শোনা সম্ভব না হয়। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য মন দিয়ে শুনতে হবে এবং এরপর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত।
বিরোধীদের অভিযোগ, ২০ জুন দিল্লিতে CJP-র নেতৃত্বে ছাত্রদের বিক্ষোভে পুলিশ যে পদক্ষেপ করেছিল, তা ছিল মাত্রাতিরিক্ত। পুলিশের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, অমিত শাহের নির্দেশেই এই পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে লোকসভা ও রাজ্যসভা- দুই কক্ষেই বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভ চলছে। অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। এর জেরে অধিবেশন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বারবার মুলতুবি করতে হয়েছে সংসদের কার্যক্রম। সংসদ ভবনের গেটের সামনেও প্রতিদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী সাংসদরা।
এর আগে সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন। দিল্লিতে যুবক ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের অত্যাচার এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে অমিত শাহকে সংসদে বিস্তারিত বিবৃতি দিতে এবং প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করার দাবি জানান তিনি।
বেণুগোপাল বলেন, নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা তরুণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুতর জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। তাই অবিলম্বে সংসদে এর বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন।
তিনি আরও যুক্তি দেন, দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। তাই দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের চূড়ান্ত দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপরই বর্তায়।
এদিকে বাদল অধিবেশন শেষ হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। সংসদে অচলাবস্থা চলতে থাকায় মহিলা সংরক্ষণ, লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা FCRA-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।