
দেশজুড়ে E20 পেট্রোল(২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রোল) বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র। তবে এই জ্বালানি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন গাড়ি ও বাইকচালকদের একাংশ। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি পেট্রোল গাড়ির মালিকদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশেরই দাবি, ২০১৫ সালের গোড়ার দিক থেকে তাঁদের গাড়ির মাইলেজ প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ই২০ পেট্রলের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া এবং মাইলেজ কমে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। এহেন আবহে গ্রাহকদের পাল্টা যুক্তি দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
E20 পেট্রোলে কি সত্যিই মাইলেজ কমে?
কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে, সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে মাইলেজ 'সামান্য' কমতে পারে। তবে সেই পরিমাণ বড়জোর ৩ থেকে ৫ শতাংশ। এমনটাই দাবি কেন্দ্রের। তাদের আরও দাবি, E২০ পেট্রলের ‘অক্টেন রেটিং’ অনেক বেশি। ফলে এটি ইঞ্জিনের ভেতরের দহন প্রক্রিয়াকে আরও স্মুদ করে তোলে। ফলে গাড়ি স্মদলি পিকআপ নেয়। ইঞ্জিন পরিষ্কার থাকে এবং পরিবেশ দূষণও অনেক কম হয়। ফলে সামান্য মাইলেজ কমলেও সামগ্রিকভাবে এটি গাড়ির জন্য ভাল।
দাম কমছে না কেন?
অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, পেট্রোলে সস্তার ইথানল মেশানো সত্ত্বেও তেলের দাম কমছে না কেন? কেন্দ্রের সাফ জবাব, ইথানল মেশানোর মূল উদ্দেশ্য তেলের দাম কমানো নয়। বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তা ছাড়া কৃষকদের থেকে ন্যায্য মূল্যে ইথানলের কাঁচামাল কেনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের যা দাম, সেই তুলনায় ই২০ পেট্রল তৈরি করতে খরচ উল্টে কিছুটা বেশিই হচ্ছে।
পাশাপাশি, দেশের এক লাখেরও বেশি পেট্রোল পাম্পে সাধারণ পেট্রল, ই১০ এবং ই২০ পেট্রলের জন্য আলাদা আলাদা পাইপলাইন ও পরিকাঠামো তৈরি করা কার্যত অসম্ভব। এর পিছনে ইতিপূর্বেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ করা হয়েছে।
পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন কি বিকল হতে পারে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইঞ্জিন বিকল’ হওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের বক্তব্য, ‘অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’ (ARAI), গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা (SIAM) এবং তেল সংস্থাগুলির দীর্ঘ গবেষণার পরেই এই জ্বালানি বাজারে আনা হয়েছে। যদি কোনও বিপদের আশঙ্কা থাকত, তবে সংস্থাগুলি গাড়ির ওয়ারেন্টি দিত না। দেশের কোটি কোটি পুরনো গাড়ি এই জ্বালানিতেই কোনও বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই রাস্তায় চলছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
কেন্দ্রের দাবি, ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)-এর কড়া নজরদারিতেই এই জ্বালানির গুণমান বজায় রাখা হচ্ছে। ভুয়ো খবরের ফাঁদে না পড়ে পরিবেশের স্বার্থে, দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা জোগাতে E20 পেট্রোলের উপর দেশবাসীকে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্র।