
এখন দেশের একটা বড় অংশের মানুষ অনলাইনে জিনিস কিনে থাকেন। আর সেখানে কেনাকাটার সময় দেখা যায় বিরাট অফার বা ডিসকাউন্ট। কিন্তু সেই ডিসকাউন্ট আদৌ বাস্তব কি না, সেই প্রোডাক্ট আদৌ কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। যদিও এবার এই সমস্ত বিষয়গুলির জন্যই ই-কমার্স সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র।
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রোডাক্টের দাম, সার্চ রেজাল্ট, স্পনসর্ড লিস্টিং, ক্রেতার অভিযোগ এবং গ্রাহকের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।
Consumer Protection (E-Commerce) Rules, 2020 সংশোধন করেছে Department of Consumer Affairs। ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে লাগু হবে নতুন নিয়মগুলি।
সরকারের দাবি, এই নতুন নিয়মে ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। ই-কমার্স সেক্টরের জন্য আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি হবে।
ডিসকাউন্ট আদৌ দেওয়া হচ্ছে তো?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি হবে ডিসকাউন্টের ক্ষেত্রে। এখন থেকে কোনও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম কোনও প্রোডাক্টের দাম কমানোর কথা ঘোষণা করলে, সেখানে কমিয়ে দেওয়া দাম এবং আগের দাম, দুটিই দেখাতে হবে। যার ফলে সহজেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন কতটা দাম কমল।
পিআইবি জানিয়েছে, ‘Prior Price’ বা আগের দাম বলতে ডিসকাউন্ট ঘোষণার আগের ৩০ দিনের মধ্যে ওই পণ্য বা পরিষেবাটি যে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি করা হয়েছিল, সেই দামকেই বোঝানো হবে।
এর ফলে ‘৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট’ বা ‘৬০ শতাংশ ডিসকাউন্ট’-এর মতো দাবি সত্যিই মানা হয়েছে কি না, সেটা ক্রেতারা বুঝতে পারবেন।
সার্চ রেজাল্টে কারচুপি নয়
নয়া নিয়ম লাগু হলে ই-কমার্স সংস্থাগুলি সার্চ রেজাল্টে কারচুপি করতে পারবে না। তারা ক্রেতাদের বিভ্রান্তকরতে পারবে না।
আসলে সার্চ রেজাল্টে কোনও পণ্য উপরের দিকে থাকলে তার দিকেই ক্রেতার প্রথমে নজর দেয়। তাই এটাকেও অনেক সময় ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়।
পেইড বা স্পনসর্ড লিস্টিংয়ে দিতে হবে ডিসক্লেইমার
নতুন নিয়মে পেইড বা স্পনসর্ড লিস্টিংয়ে স্পষ্ট এবং চোখে পড়ার মতো ডিসক্লোজার লিখতে হবে। এতে গ্রাহকদের আদতে সুবিধাই হবে।
ডার্ক প্যাটার্ন ও অতিরিক্ত ফিতে লাগাম
প্ল্যাটফর্মগুলিকে Guidelines for Prevention and Regulation of Dark Patterns, 2023 মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি প্রতি বছর নিজেদের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিরও অডিট করতে হবে। সেই সঙ্গে কমপ্লায়েন্সের সার্টিফিকেটও স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।
২০২৩ সালের ডার্ক প্যাটার্ন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর অনলাইন স্ট্র্যাটেজিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মিথ্যে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা, ক্রেতার অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত প্রোডাক্ট কার্টে ঢুকিয়ে দেওয়া, সাবস্ক্রিপশন থেকে বেরনোর রাস্তা কঠিন করে দেওয়া ইত্যাদি।
অভিযোগের কপি দিতে হবে ক্রেতাকে
প্রতিটি ই-কমার্স সংস্থাকে তাদের গ্রিভেন্স অফিসারের কাজে কাছে নথিভুক্ত করা অভিযোগের একটি কপি অভিযোগকারীকে দিতে হবে। এটাই নতুন নিয়ম।
এছাড়াও প্রত্যেক ই-কমার্স সংস্থাকে National Consumer Helpline (NCH)-এর convergence process-এর সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাতে দ্রুত সমস্যার নিষ্পত্তি করা যাবে।
এছাড়া নতুন নিয়মে মার্কেটপ্লেস প্ল্যাটফর্মগুলিকে পণ্য এবং বিক্রেতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ক্রেতাদের দিতে হবে।
এর মধ্যে থাকবে—
এর ফলে অনলাইনে পণ্য কেনার আগে ক্রেতারা আরও ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।