
উচ্চমাত্রার ইথানল মেশানো পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) তুলে নিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথাই জানান হয়েছে। আর এই ঘোষণার ফলেই দেশে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের উপর কোনও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে ই২২, ই২৫, ই২৫, ই২৭ এবং ই৩০ পেট্রোল ছাড়ের আওতায় আসবে।
মাথায় রাখতে হবে, ২০১৪ সালে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর হার ছিল ১.৫৩ শতাংশ। সেটা এখন বাড়িয়ে বর্তমানে ২০ শতাংশে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্ধারিত সময়সীমার পাঁচ বছর আগেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ফলে ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। প্রায় ৩০২ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যদি ভারতে বিক্রি হওয়া নতুন বাইক ও যাত্রীবাহী গাড়ির অর্ধেকও ফ্লেক্স-ফুয়েল (ইথানল মেশানো জ্বালানি) প্রযুক্তিতে চলে যায়, তাহলে বছরে অতিরিক্ত ৩১২ কোটিরও বেশি লিটার ইথানলের চাহিদা তৈরি হবে। এর ফলে কৃষকদের প্রায় ১২,৪০৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হতে পারে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৫,১৫১ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ৬৬.৪ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমে যাবে। যার ফলে দূষণও কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাথায় রাখতে হবে, চলতি মাসের শুরুতে ই৮৫ জ্বালানি চালু হয়েছে। ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির জন্য তৈরি ইথানল জ্বালানির দাম সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় লিটার প্রতি ২০ টাকা কম। আর তারপরই সরকার ঘোষণা করল উচ্চমাত্রায় ইথানল মেশানো জ্বালানিতে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে।
এখন দেশের কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে ই৮৫ পেট্রোল পাওয়া যাবে। এটি শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন রয়েছে, এমন গাড়িতেই ব্যবহার করা যাবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০০টি এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫,০০০টি আউটলেটে ই৮৫ তেল সরবরাহ করা হবে।
ই৮৫ জ্বালানিতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ইথানল থাকে। ১৪-১৯ শতাংশ থাকে পেট্রোল। এটি ই২০ থেকে ই১০০ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি বা বাইকের জন্য এটা উপযুক্ত।
ই৮৫ ফলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশে ইথানল মেশানোর হার প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
পুরীর দাবি, জ্বালানির নিরাপত্তা, কম দাম এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত সফল হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের জ্বালানির দামের বৃদ্ধি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক কম।