Advertisement

Gyanesh Kumar কে সরানোর প্রস্তাব এলে কী করবেন? জানালেন স্পিকার

সুপ্রিম কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতিকে অপসারণের জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর ক্ষেত্রে ওই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে।

জ্ঞানেশ কুমার নিয়ে যা বললেন স্পিকার ওম বিড়লাজ্ঞানেশ কুমার নিয়ে যা বললেন স্পিকার ওম বিড়লা
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 22 Oct 2026,
  • अपडेटेड 7:57 PM IST
  • এসআইআরকে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা।
  • এর আগেও দুবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি করেছে বিরোধীরা। সংসদের অধিবেশনে এই মর্মে প্রস্তাবও আনার কথাও জানিয়েছে। আগেও এমন প্রস্তাব এসেছিল সংসদের উভয় কক্ষে। সে বার তা খারিজ করে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এবার কি এমন প্রস্তাব এলে গ্রহণ করা হবে? মুখ খুললেন স্পিকার। কী জানালেন তিনি?

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানান, নতুন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব আনা হলে নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই তা খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত নোটিস খারিজ করে দিয়েছিল। গত ১২ মার্চ ওই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছিল। তাতে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়নি। দ্বিতীয়বার জমা দেওয়া নোটিস এখনও রাজ্যসভায় ঝুলে রয়েছে। 

লোকসভার স্পিকার আরও জানান, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। গত দু'সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। অভিযোগ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে অনিয়ম করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে পদ থেকে সরানো যায়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও সংসদে সেই পথই অনুসরণ করতে হবে।

কীভাবে সরানো যাবে জ্ঞানেশকে?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্ত ও কার্যকাল) আইন ২০২৩ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য কোনও নির্বাচন কমিশনার চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যে কোনও সময় পদ ছাড়তে পারেন।

সংবিধানের ১২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে পদ থেকে সরাতে হলে সংসদের দুই কক্ষেই প্রস্তাব পাশ করিয়ে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হয়। ওই প্রস্তাব পাশ করাতে সংশ্লিষ্ট কক্ষের মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। যে অধিবেশনে প্রস্তাবটি পাশ হবে, সেই অধিবেশনেই তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। বিচারপতিকে সরানোর ভিত্তি হতে হবে প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতা।

Advertisement

তদন্ত কমিটি গঠন

আইন অনুযায়ী, সংসদের কোনও কক্ষে বিচারপতিকে অপসারণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। বিচারপতিকে সরানোর দাবির পিছনে যে অভিযোগগুলি রয়েছে, সেই কমিটি সেগুলি খতিয়ে দেখবে। কমিটিতে থাকবেন ভারতের প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতি, ২৫টি হাইকোর্টের মধ্যে যে কোনও একটির প্রধান বিচারপতি এবং একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তদন্ত শেষ হওয়ার পরে কমিটি তার রিপোর্ট লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেবে। স্পিকার ও চেয়ারম্যান যৌথভাবে কমিটি গঠন করলে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তাঁদের দুজনের কাছেই।

রিপোর্টে প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণও জানাবে কমিটি। তদন্তে যদি দেখা যায়, বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তা হলে সংসদের কোনও কক্ষেই ওই রিপোর্ট নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কক্ষে বিচারপতিকে অপসারণের যে প্রস্তাব ঝুলে রয়েছে, সেটিও আর এগোবে না।

অভিযোগ প্রমাণ হলে কী হবে?

তবে কমিটির রিপোর্টে যদি বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং তদন্ত রিপোর্ট সংসদের যে কক্ষে প্রস্তাবটি বিচারাধীন রয়েছে, সেখানে আলোচনার জন্য পেশ করা হবে। সংসদের দুই কক্ষেই প্রস্তাবটি পাশ হলে বিচারপতির অসদাচরণ বা অক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এরপর যে অধিবেশনে প্রস্তাবটি পাশ হবে, সেই অধিবেশনেই সংসদের দুই কক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর সুপারিশ পাঠাবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement