
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চাইছে বিরোধীরা। সেই মতো দিল্লিতে প্রতীকী ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচি পালন করবে বিরোধী INDIA জোট। এই কর্মসূচিতে প্রায় ২১টি বিরোধী দল যোগ দিতে পারে। এই প্রতীকি ইমপিচমেন্ট কীভাবে হবে? কারা থাকবেন? সবটা জেনে নিন।
আজ কখন ইমপিচমেন্ট?
আজ বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে এই কর্মসূচি শুরু হবে। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতেই হবে মক ইমপিচমেন্ট হবে।
প্রসঙ্গত, প্রথমে শুক্রবার এই কর্মসূচি নিয়েছিল ইন্ডিয়া ব্লক। কিন্তু সেই দিন দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। যার ফলে তা পিছিয়ে শনিবার করা হয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নিজেই এই দিন পরিবর্তনের কথা জানান।
কারা অংশগ্রহণ করছে?
যতদূর খবর, এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের প্রায় ২১টি দল যোগ দিতে পারে। এমনকী বেশ কয়েকটি বাম দলও অংশ নেবে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং SIR-এর কারণে সমস্যায় পড়া মানুষজনও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
এই প্রতীকী অপসারণ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় UPA সরকারের আমলে তিনি লোকসভার স্পিকার ছিলেন।
কীভাবে হবে মক ইমপিচমেন্ট?
সংসদের অধিবেশনের ধাঁচে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সভাপতিত্ব করবেন মীরা কুমার। আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করবেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
এরপর বিভিন্ন দলের নেতারা নির্দিষ্ট সময় ধরে ওই প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন বক্তা বক্তব্য রাখবেন। শেষে বলতে উঠবেন রাহুল গান্ধী। তবে এর ফলে ক্ষমতা হারাবেন না জ্ঞানেশ। এটা একটা প্রতীকী ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া।
গত বৃহস্পতিবার খাড়গের বাসভবনে বিরোধী নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানেই কর্মসূচির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, জয়রাম রমেশ, কে সি বেণুগোপাল এবং মীরা কুমার। এছাড়াও ছিলেন সিপিএমের জন ব্রিটাস, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি সহ অন্যান্য নেতারাও ছিলেন।
প্রথমে দিল্লির অশোকা হোটেলে এই কর্মসূচির প্ল্যানিং ছিল। পরে জায়গা বদলে রামলীলা ময়দানে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অনুমতি পেতে সমস্যা হয় বলে অভিযোগ। শেষে খাড়গের বাসভবনকেই এই কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
কেন এই কর্মসূচি বিরোধীদের?
SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বিরোধীদের। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। সেই মতো মক ইমপিচমেন্ট করতে চলেছে তারা।
এছাড়া ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে INDIA জোটের। সেখানে 'ভোট চুরি'র অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাবেন বিরোধী নেতারা।