
শনিবার মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বসেছিল বিরোধীদের মক পার্লামেন্ট। সেখানে আনা হয় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব। তা পাশও হয়। এবার প্রশ্ন হল, সংসদে কীভাবে জ্ঞানেশকে সরানোর প্রস্তাব আনা যায়? আর প্রস্তাব এলেই কি সরে যাবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার? বলে রাখি, এর আগে বাজেট অধিবেশনেও জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা। কিন্তু তাঁদের আনা নোটিস খারিজ করে দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকার। জেনে নেওয়া যাক, ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আসলে ঠিক কী।
বাংলায় নির্বাচনের সময় জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশে পেয়েছিল বিরোধী দলগুলিকে। ১২ মার্চ সংসদের দুই কক্ষেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে নোটিস জমা দেওয়া হয়। তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন লোকসভার ১৩০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করতে হলে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর দরকার। ফলে সংখ্যা বিরোধীদের হাতে ছিল। তাহলে কেন প্রস্তাব পাশ হল না? কারণ দুই কক্ষেই বিরোধীদের নোটিস খারিজ করে দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, বিরোধীদের অভিযোগের কয়েকটির নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। আর কয়েকটি আদালতে বিচারাধীন।
কমিশনার বাছেন কারা
সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের মাথায় তিন সদস্য। এক জন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দু'জন নির্বাচন কমিশনার। পদমর্যাদায় ৩ জনের সমান ক্ষমতা। কোনও সিদ্ধান্তে সর্বসম্মতি না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মানে তিন জনের মধ্যে দু'জনের সমর্থন। নতুন সংশোধিত আইনে রাষ্ট্রপতি একটি বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করেন। এই কমিটির তিন জন সদস্য হলেন, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক সদস্য।
অবসরের নিয়ম
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কার্যকালের মেয়াদ ৬ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত। যে সময়টা আগে পূর্ণ হবে।
অপসারণের নিয়ম কী
নিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত হল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারত সরকারের সচিব পদমর্যাদার কোনও পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির সততা ও নিষ্ঠা থাকতে হবে এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে গভীর অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।
বেতন কত
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পান।
সরানোর দুই কারণ
প্রমাণিত অসদাচরণ। দুর্নীতির সঙ্গে যোগ। নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা।
কীভাবে সরানো যাবে
১। প্রথমে সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর নোটিস দিতে হবে। লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর দরকার।
২। চেয়ারম্যান বা স্পিকার অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবেন। গ্রহণযোগ্য মনে না হলে নোটিস খারিজ করে দেবেন।
৩। অভিযোগ গ্রহণ করা হলে একটি তদন্ত কমিটি হবে। ওই কমিটি বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে।
৪। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দোষী সাব্যস্ত করা হলে অপসারণের প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হবে।
৫। দুই কক্ষে প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করলে অপসারণ।