
দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির একটি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তীব্র চাপানউতোর। এজি নুরানি মেমোরিয়াল লেকচারে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন,'বামপন্থা নয়, ভারতের জন্য বিপজ্জনক হিন্দু ডানপন্থী সাম্প্রদায়িকতা'। আনসারির ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ভিএইচপির মুখপাত্র বিনোদ বনসলের বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজকে ভারতের জন্য বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে আনসারির নিজের রেকর্ড দেখা উচিত।
২০১৯ সালে প্রকাশিত এজি নুরানির বই 'The RSS: A Menace to India' বই উদ্ধৃত করে আনসারি বলেছেন, 'ভারতের জন্য বিপদ বামপন্থা নয়, বরং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা'। বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের একটি বৈঠকে ওই মন্তব্য করা হয়েছে। তার নথি তৎকালীন বিদেশসচিব জগৎ সিং গুন্ডেভিয়ার রেকর্ডে রয়েছে বলে দাবি।
আনসারি কী বলেছিলেন?
যে বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেখানে সেটি নিজের মতামত হিসাবে তুলে ধরেননি আনসারি। বরং এজি নুরানির বইয়ের সূত্র উল্লেখ করে নেহরুর পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ এনেছিলেন। নুরানির লেখার সূত্র ধরে জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
আনসারির বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এমন কিছু প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নাগরিক জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে। এই ধরনের প্রবণতার রাজনৈতিক ও আইনিভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
ভিএইচপি নেতার প্রশ্ন
আনসারির বক্তব্যের ভিএইচপি নেতা বিনোদ বনসল বলেন,'আনসারিকে পদ, সম্মান এবং সুযোগ দিয়েছে দেশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজকে কীসের ভিত্তিতে দেশের জন্য বিপদ বলে চিহ্নিত করা যায়? আসল উদ্বেগ তাঁদের নিয়ে, যাঁরা সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন'।
সমালোচনায় বিজেপি
আনসারির বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেনও। তিনি মন্তব্যটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের মুসলিম সমাজ শিক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এগিয়ে চলেছে। দেশে শান্তির পরিবেশ রয়েছে বলেও দাবি করে তিনি এই ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
মুখতার আব্বাস নকভি বলেন,'দেশভাগের পর ভারত নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেন। সমাজে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে এমন রাজনীতি সফল হবে না'।
আনসারির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা করুণাসাগরও। তাঁর বক্তব্য,'বিষয়টি যদি মৌলবাদ বা চরমপন্থার হয়, তা হলে বামপন্থী উগ্রবাদ এবং ইসলামি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও একই রকম স্পষ্ট অবস্থান থাকা উচিত। যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদের একই ভাবে নিন্দা করা প্রয়োজন'।
মুসলিম সংগঠনের আপত্তি
অল ইন্ডিয়া ইমাম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত উমের আহমেদ ইলিয়াসিও আনসারির বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সামাজিক পরিবেশকে অশান্ত করতে পারে। ইলিয়াসির বক্তব্য,'মুসলিমদের উস্কে দেওয়ার মতো মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়'।