Advertisement

Harbhajan Singh: ‘রাজ্যসভার আসন কত টাকায় বিক্রি হয়েছিল?’ আপ-কে নজিরবিহীন তোপ হরভজন সিংয়ের

Harbhajan Singh: ২২ মে, ২০২৬ তারিখে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’ (সাবেক টুইটার)-এ দেবেন্দর যাদব নামে এক ইউজারের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন হরভজন। যদিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নেননি, তবে তাঁর নিশানায় যে আম আদমি পার্টি (AAP), তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।

হরভজন সিংহরভজন সিং
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 22 May 2026,
  • अपडेटेड 8:06 PM IST

Harbhajan Singh AAP: রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন বোম ফাটালেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বর্তমান রাজ্যসভা সাংসদ হরভজন সিং। তাঁকে যাঁরা ‘গদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক বলছেন, পাল্টা তাঁদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ‘ভাজ্জি’র বিস্ফোরক প্রশ্ন, পাঞ্জাবের রাজ্যসভার আসন ঠিক কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল, আগে সেই হিসাব দেওয়া হোক। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পঞ্জাবের রাজ্যসভার টিকিট টাকার বিনিময়ে ‘বিক্রি’ করা হয়েছিল এবং তার বদলে মোটা অঙ্কের বা প্রণামী নেওয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, ভারতের প্রাক্তন এই অফ-স্পিনার কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সময় এলে তিনি সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনবেন যে, ‘কাকে, কত টাকা এবং কার তরফে’ এই প্রণামী দেওয়া হয়েছিল।

২২ মে, ২০২৬ তারিখে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’ (সাবেক টুইটার)-এ দেবেন্দর যাদব নামে এক ইউজারের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন হরভজন। যদিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নেননি, তবে তাঁর নিশানায় যে আম আদমি পার্টি (AAP), তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাঁর বাড়ির সামনে কুশপুতুল দাহ করে এবং তাঁর বাড়ির দেওয়ালে ‘গদ্দার’ লিখে দেয়। এই প্রসঙ্গে ভাজ্জির দাবি, সাধারণ মানুষ এই কাজ করেননি; বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লোকেদের ওপর থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ক্রিকেট মাঠের এই প্রাক্তন তারকা স্পষ্ট জানান, তিনি ২০ বছর ধরে খেলার মাঠে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তাই দেশের মানুষই ঠিক করবেন তাঁকে কীভাবে মনে রাখা হবে। এই ধরনের ‘পেইড ট্রোলার’দের তিনি বিন্দুমাত্র পরোয়া করেন না।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে আম আদমি পার্টিতে যোগ দিয়ে ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য। ‘আপ’-এর টিকিটেই পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় যান তিনি। যার মেয়াদ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে এবং বর্তমানেও তিনি সাংসদ পদে রয়েছেন। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আম আদমি পার্টিতে এক বিরাট ভাঙন ধরে। আপ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এপ্রিলেই ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দেন হরভজন। তাঁর সঙ্গে রাঘব চাড্ডা এবং স্বাতী মালিওয়াল সহ মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ আপ ছেড়েছিলেন। দলবদলের পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। ওই ইউআরএল ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন, যে নেতাকে হরভজন খারাপ বলছেন, তাঁর দেওয়া রাজ্যসভার আসন থেকে ইস্তফা কেন দিলেন না? বিজেপিতে যাওয়ার পেছনে তাঁর ‘কী বাধ্যবাধকতা’ ছিল এবং তাঁর ‘বিবেকের দাম কত লেগেছে’? জবাবে হরভজন লেখেন, তিনি কোনও নেতাকে গালি দেননি বা নিজের মুখ নোংরা করতে চান না।

Advertisement

উল্টে পাঞ্জাবকে ‘লুট’ করার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন হরভজন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে যোগ্যতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লোকেদের ‘মন্ত্রী-সন্তরি’ বানানো হয়েছিল, তাও তিনি ফাঁস করবেন। তাঁর অভিযোগ, দলের কিছু লোক কেবল ‘লালা-কে মাল পৌঁছে দেওয়ার’ (আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার) জন্য কাজ করত। এই রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে পাঞ্জাব সরকার তাঁর সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাঁর বাড়ির বাইরে থেকে পুলিশ তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তাঁর সুরক্ষায় সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হয়েছে। হরভজন সিংয়ের এই মন্তব্যের পর পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যৎ দিনে তিনি আর কী কী বিস্ফোরক তথ্য খোলসা করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement