
গঙ্গাস্নানের আশায় হরিদ্বারে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন পুণ্যার্থীরা। গঙ্গাখাল ১৮ দিনের জন্য বন্ধ থাকায় হর কি পৌরি ঘাটে জলের অভাব দেখা দিয়েছে। বস্তুত, জল শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে পবিত্র গঙ্গায় স্নান করতে পারছেন না বহু ভক্ত। বার্ষিক পরিষ্কার ও মেরামতির কাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে খালটি। আগামী ৭ নভেম্বর মধ্যরাতে ফের গঙ্গা খাল খুলে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের কুম্ভমেলার জন্য লক্ষ্মণ ঝুলারও সংস্কারের কাজ চলছে।
হর কি পৌরিতে গিয়ে হতাশ পুণ্যার্থীরা
হর কি পৌরি হরিদ্বারের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। সবচেয়ে বেশি ভিড় এই ঘাটেই। সন্ধ্যায় হর কি পৌরির গঙ্গা আরতি দেখতে দেশ বিদেশের মানুষ জড়ো হন। গঙ্গাস্নানের জন্য প্রতি বছর বহু মানুষ এখানে ভিড় করেন। বর্তমানে বাঙালি তীর্থযাত্রীদের মরসুম চলায় হরিদ্বারে যাচ্ছেন বহু বাঙালি ভক্তও। কিন্তু ঘাটে পর্যাপ্ত জল না থাকায় তাঁদের অনেকেরই গঙ্গাস্নানের ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হতাশ তাঁরা।
হরিদ্বারে আসা কয়েক জন ভক্ত জানিয়েছেন, গঙ্গায় স্নান করার ইচ্ছা নিয়েই তাঁরা এসেছিলেন। কিন্তু হর কি পৌরিতে জল না থাকায় সেই সুযোগ মিলছে না। তাঁদের কথায়, গঙ্গাস্নান করতে না পারলেও অন্তত গঙ্গাজল পান করে এবং জল ছিটিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস পূরণের চেষ্টা করবেন তাঁরা।
শুকনো ঘাটে কয়েন খুঁজছেন অনেকে
গঙ্গা খালের জলপ্রবাহ বন্ধ থাকায় হর কি পৌরির শুকনো অংশে অন্য ছবিও দেখা যাচ্ছে। গঙ্গায় ভক্তদের ছুড়ে দেওয়া কয়েন, টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজতে নেমেছেন অনেকে। সাধারণত নদীর জলে নেমে এই সব জিনিস খোঁজেন তাঁরা। জল কমে যাওয়ায় এখন শুকনো অংশেও চলছে সেই খোঁজ।
১৮ দিনের জন্য জলপ্রবাহ বন্ধ
দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের পানীয় জল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই গঙ্গা খাল। প্রতি বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খালটি বন্ধ রাখা হয়। এ বারও ১৮ দিনের জন্য জলপ্রবাহ বন্ধ রেখে মেরামতির কাজ চলছে। ২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলাকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত কাজও করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর মধ্যরাতে গঙ্গা খাল ফের খুলে দেওয়ার কথা। তবে খাল খোলার পর হর কি পৌড়িতে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরতে কতটা সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে জল সরবরাহের পরিস্থিতির উপর।