
হরিদ্বারে হর কি পৌরি ঘাটে জলের স্তর নেমে গিয়েছে অনেক নীচে। অবস্থা এমন যে হাঁটু পর্যন্ত জলও নেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা তাঁদের পুণ্যস্নানের জন্য জল পাচ্ছেন না। কেউ ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ বালতি, মগ হাতে কোনও ক্রমে জল তুলছেন পাথরের খাঁজ থেকে। হর কি পৌরিতে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কার্তিক পূর্ণিমার স্নান কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে অনেকেই এখন চিন্তিত। বিশেষ বিষয় হল, কার্তিক পূর্ণিমার স্নান বছরের অন্যতম বড় স্নান।
কেন নদীতে জল নেই?
হর কি পৌরিতে হঠাৎ জল উধাও হয়ে যাওয়াটা কোনও দুর্ভিক্ষ বা সংকটের ঘটনা নয়। বরং, গঙ্গার যে অংশ থেকে এখানে জল আসে, সেই অংশটিকে বার্ষিক পরিষ্কার ও মেরামতের জন্য ১৮ দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে, হর কি পৌরিতে কোনও জল নেই। জলের স্তর হঠাৎ কমে যাওয়ায় হর কি পৌরির অনেক ভক্তই চিন্তুত। অনেকে ঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে স্নানের জন্য কলসিতে জল ভরছেন।
কার্তিক পূর্ণিমায় স্নান কীভাবে সম্পন্ন হবে ?
হিন্দুধর্মে কার্তিক পূর্ণিমায় স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিনে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গঙ্গায় পুণ্যস্নান করতে ঘাটে আসেন। যেহেতু এখন হর কি পৌরিতে জল নেই, তাই কার্তিক পূর্ণিমায় কীভাবে স্নান করবেন তা নিয়ে ভক্তরা সমস্য়ায়। রিপোর্ট বলছে ৭ নভেম্বর মধ্যরাতে গঙ্গার এই শাখাংশ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। ফলে হর কি পৌরিকে জলের স্তর স্বাভাবিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে কার্তিক পূর্ণিমার স্নান ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ফলে তখন সমস্যা থাকবে না বলেই আশা করা যাচ্ছে।
গুপ্তধনের খোঁজ চলছে!
হর কি পৌরিতে জল কমতেই কিছু লোক আবার গুপ্তধন খুঁজতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। আদতে হর কি পৌরিতে সারা বছর ধরে ভারত ও বিদেশ থেকে আসা ভক্তরা ভক্তিভরে মুদ্রা, গয়না এবং ধাতু নিবেদন করেন। তাই এই সময় জল কমে গেলেই অনেকে মূল্যবান কিছুর খোঁজে নেমে পড়েন।
কার্তিক পূর্ণিমায় স্নানের গুরুত্ব:
কার্তিক পূর্ণিমায় গঙ্গায় স্নান করা এবং প্রদীপ দান করাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই দিনে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে উপবাসের ব্রত গ্রহণ করে কোনও পবিত্র নদী, হ্রদ বা পুকুরে স্নান করতে হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই স্নান পাপ মোচন করে, মুক্তি এনে দেয় এবং ভগবান শিব ও ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ করে। বলা হয়, স্নানের পর প্রদীপ, খাদ্য ও বস্ত্র দান করলে জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।