Advertisement

Harish Rana: হরিশ রানা প্রয়াত, 'নিষ্কৃতি' পেলেন দেশের প্রথম নিষ্কৃতি মৃত্যু পাওয়া নাগরিক, ১৩ বছর কোমায় ছিলেন

সুপ্রিম কোর্ট যে দিন নিষ্কৃতি মৃত্যুর রায়দিল, সেদিন হরিশ রানার বাবা অশোক রানার বলেছিলেন, 'আমরা অনেক লড়াই করেছি। কোন মা-বাবা চায়, ছেলের মৃত্যু? আমরা গত ৩ বছর ধরে এই মামলার জন্য লড়ে যাচ্ছি। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিল আমার ছিল। পড়াশোনায় সর্বদাই প্রথম হত।' 

হরিশ রানার মৃত্যুহরিশ রানার মৃত্যু
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 24 Mar 2026,
  • अपडेटेड 5:36 PM IST
  • গত ১১ মার্চ হরিশ রানাকে নিষ্কৃতি মৃত্যু দেয় সুপ্রিম কোর্ট
  • হরিশ রানা মামলা কী? 
  • ২০১৮ সালের কমন কজ অফ গাইডলানস 

ভারতের প্রথম পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যুর অধিকার পাওয়া হরিশ রানা প্রয়াত। আজ অর্থাত্‍ মঙ্গলবার দিল্লির AIMS হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হরিশ। ২০১৩ সাল থেকে কোমাতে ছিলেন হরিশ রানা। ছেলের নিষ্কৃতি মৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মা-বাবা। 

গত ১১ মার্চ হরিশ রানাকে নিষ্কৃতি মৃত্যু দেয় সুপ্রিম কোর্ট

গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নিষ্কৃতি মৃত্যুর রায় দেয়। এটাই ভারতের প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া বা পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যু। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো, যাবতীয় শর্ত মেনে হরিশ রানার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।   ৩২ বছর বয়সি হরিশ রানা সেই দিন থেকেই খাবার ও জল ছাড়াই বেঁচেছিলেন। এই ভাবেই ১০ দিন কেটেছে। অবশেষে আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ চিকিত্‍সায় আর সাড়া দিচ্ছিলেন না।

সুপ্রিম কোর্ট যে দিন নিষ্কৃতি মৃত্যুর রায়দিল, সেদিন হরিশ রানার বাবা অশোক রানার বলেছিলেন, 'আমরা অনেক লড়াই করেছি। কোন মা-বাবা চায়, ছেলের মৃত্যু? আমরা গত ৩ বছর ধরে এই মামলার জন্য লড়ে যাচ্ছি। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিল আমার ছিল। পড়াশোনায় সর্বদাই প্রথম হত।' 

হরিশ রানার বাবা -- ফাইল ছবি

হরিশ রানা মামলা কী? 

১১ মার্চের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, AIIMS-এ হরিশ রানাকে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করতে হবে। সেই মতোই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর আইনজীবী মণীশ জৈন জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর অধীনে আদালত হরিশ রানাকে পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যু দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি ১১ মার্চ ANI-কে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই রানাকে AIIMS-এ স্থানান্তর করা হবে, যেখানে সমস্ত লাইফ সাপোর্ট টিউব খুলে দেওয়া হবে, যাতে তিনি আর কোনও চিকিৎসা হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

২০১৮ সালের কমন কজ অফ গাইডলানস 

Advertisement

তিনি আরও  জানান, এই সিদ্ধান্ত ২০১৮ সালের কমন কজ অফ গাইডলানস অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্যালিয়েটিভ অবস্থায় সম্পূর্ণ অচল রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত দিশা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বজুড়ে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি প্রচলিত হলেও, এই রায় ভারতে একটি ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রাজ্যের চিফ মেডিক্যাল অফিসারদের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের ইউথানেশিয়া বোর্ড গঠন করতে এবং নিয়মিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনিল নায়েক, IMA-এর সভাপতি, বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ হরিশ রানা গত ১৩ বছর ধরে গুরুতর মাথার আঘাতের পর শারীরিক অক্ষমতার সঙ্গে লড়াই করছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিও তৈরি করা প্রয়োজন, কারণ এই ধরনের পরিস্থিতি পরিবারগুলির ওপর অর্থনৈতিক ও মানসিক, দু’ধরনেরই চাপ সৃষ্টি করে।“

Read more!
Advertisement
Advertisement