
প্রেমিকা থাকা অন্যায়ের নয়, তবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তা পালন করতে হবে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি বিয়ের আগে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়াও জরুরি। বৃহস্পতিবার লখনউয়ে একটি বেসরকারি কলেজের সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এমনই বার্তা দিলেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল। একই সঙ্গে কম বয়সে মেয়েদের মা করে দিয়ে তাঁদের একা ফেলে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনন্দীবেন বলেন, ১৩-১৪ বছর বয়সে কোনও মেয়েকে মা করে দিয়ে তাঁকে একা ফেলে চলে যাওয়া মোটেই ঠিক নয়। এই ধরনের ঘটনা রুখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সমাজকেও নিজের দায়িত্ব বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কোনও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে তার পরিণতি সম্পর্কে ভালো করে ভাবতে হবে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তা রাখতে হবে
সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, প্রেমিকা থাকা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কাউকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিলে সেই কথা রাখতে হবে। সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দায়িত্ব এবং সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আনন্দীবেনের বক্তব্য, বিয়ে শুধু দু'জন মানুষের সম্পর্ক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের প্রতি দায়িত্বও। তাই বিয়ের আগে তরুণদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা জরুরি। একটি পরিবারকে সামলানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করার পরেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
মেয়েদের ভূমিকা নিয়ে আগেও মন্তব্য করেছেন
এর আগেও নারী, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন আনন্দীবেন প্যাটেল। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কানপুরের ছত্রপতি শাহু জি মহারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, মহিলারা আইএএস অফিসার বা শিক্ষিকা যা-ই হতে চান না কেন, আগে তাঁদের 'দক্ষ মা' হয়ে উঠতে হবে।
এ ছাড়াও, পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি রান্না এবং সংসার সামলানোর দক্ষতা অর্জনের উপর জোর দিয়েছিলেন তিনি। তবে বিয়ের পরেও মহিলাদের পড়াশোনা বন্ধ না করে নিজেদের জ্ঞান সমাজ ও দেশের কাজে লাগানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল।
তাঁর এই মন্তব্যগুলি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র আন্দোলনের কর্মী এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য ছিল, মহিলাদের উপর ঘরোয়া দায়িত্বের প্রত্যাশা চাপিয়ে দিলে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার ধারণা আরও শক্তিশালী হয় এবং তাঁদের পেশাগত আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকদের একাংশ পারিবারিক মূল্যবোধ ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বের উপর জোর দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করেন।
এর আগে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন আনন্দীবেন। পারিবারিক জীবনের সঙ্গে জড়িত দায়িত্বগুলি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
গুজরাতে শিশুদের জন্য উদ্যোগের কথাও স্মরণ
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে গুজরাতে মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নেওয়া একটি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আনন্দীবেন প্যাটেল। তিনি জানান, মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খরচ হওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সেই ভাবনা থেকেই গুজরাতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ছোলা ও গুড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ছোলা সেদ্ধ করে তাতে মশলা মিশিয়ে শিশুদের পরিবেশন করতেন। শিশুদের পুষ্টি ও কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান রাজ্যপাল।