
উত্তরাখণ্ডের বিকাশনগরের বৈরাগীওয়ালা গ্রামে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে উত্তেজনা। এক যুবকের মৃত্যু। ঘটনার পর থেকে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার জেরে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযানও শুরু হয়। তবে এলাকায় উত্তেজনা এখনও কমেনি। সেখানে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ভয়াবহ সংঘর্ষ
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষ লাঠি নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করছে। গ্রামের রাস্তায় হুড়োহুড়ি, চিৎকার এবং আতঙ্কের পরিবেশ। কেউ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন, আবার কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন।
কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিতে সেচের জল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। আর তা সংঘর্ষের চেহারা নেয়। দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়।
এক যুবকের মৃত্যু, তিনজন আহত
এই সংঘর্ষে এক হিন্দু যুবক নিহত হন। তাঁর নাম বিনোদ। জখম হয়েছেন তিনজন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের কর্মী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ
বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বাড়িতে বুলডোজার চালানোর দাবি জানায়। তারপর জাতীয় সড়ক অবরোধও করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে ও খুন করা হয়েছে যুবককে।
বিজেপি বিধায়কের সফর
ঘটনার পর বিজেপি বিধায়ক মুন্না সিং চৌহান প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে জখমদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি বৈরাগীওয়ালা গ্রামে গিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জমিতে জল দেওয়াকে নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে কয়েকজন যুবক বিনোদ নামে এক ব্যক্তিকে খুন করে। আরও তিনজনের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।